জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ২৩০ রানে পিছিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৪০ রানের জবাবে ইনোসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরিতে সব উইকেট হারিয়ে ৪১০ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংস থেকে ২৭০ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দিন শেষে ১ উইকেটে ৪০ রান করেছে বাংলাদেশ।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় বাংলাদেশ। দিন শেষে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ১৩৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। কাইয়া ৭৬ ও ব্রেন্ডন টেইলর ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
দ্বিতীয় দিন ১৭ রানেই বাংলাদেশ পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটরক্ষক অমিত হাসানকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন টেইলর।
দলীয় ১৪৩ রানে টেইলর ফেরার পর ক্রিজে আসেন ব্রায়ান বেনেট। তৃতীয় উইকেটে কাইয়ার সাথে ১০৭ রান যোগ করে থামেন তিনি। ব্যক্তিগত ৫৯ রানে বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুলের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন বেনেট।
বেনেটের সাথে জুটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করেন কাইয়া। ইনিংস বড় করার চেষ্টায় দেড়শর কাছাকাছি গিয়ে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হন কাইয়া। ২২৭ বল খেলে ১৭টি চারে ১৪০ রান করেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের উইকেটরক্ষক টাফাডজাওয়া সিগা ১ রানে রান আউট হওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে ১০২ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ের লিড আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধভেরে।
৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রান করা আরভিনকে শিকার করে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল।
দলীয় ৩৮২ রানে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আরভিন ফেরার পর তাইজুলের ঘূর্ণিতে খুব বেশি দূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তবে মাধভেরের লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪শ রানের গণ্ডি পেরোতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত ৪১০ রানে থামে জিম্বাবুয়ে।
এই ইনিংসের বাংলাদেশের সফল বোলার তাইজুল। ৪০ দশমিক ২ ওভার বল করে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। ৬০ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯তম ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ষষ্ঠবারের মতো ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তাইজুল। তবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার।
এছাড়াও টেস্টে ১৯বার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের রেকর্ড স্পর্শ করেন তাইজুল। ৭১ টেস্টে ১৯বার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন সাকিবও।
২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ২২ রানের সূচনা করে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৯ রান করে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ও পেসার রিচার্ড এনগারাভার শিকার হন সাদমান ইসলাম।
এরপর দিনের বাকী ২৮ বল থেকে ১৮ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থেকে যান আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও মোমিনুল হক। জয় ২১ ও মোমিনুল ৯ রানে অপরাজিত আছেন।