ডালাসে রাত ১টায় এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন আর ফ্রান্স মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন মাঠের ফুটবল শুরুর আগেই ড্রেসিংরুমের বাইরে শুরু হয়ে গেছে এক হাই-ভোল্টেজ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ! দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের এই দুই মহাশক্তি। কাগজে-কলমে দুই দলের মধ্যে ফারাক খোঁজা দায় হলেও, মাঠের বাইরের ‘মাইন্ড গেমে’ কিন্তু ইতিমধ্যেই বারুদ ছড়াতে শুরু করেছেন দু’দলের খেলোয়াড়েরা।
ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম ইতিমধ্যেই বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এই ম্যাচের ‘ফেবারিট’ তকমা দিয়ে নিজেদের ওপর থেকে চাপ কমানোর চাল চেলেছেন। তবে স্প্যানিশ ডেরার চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪ সালের ইউরো সেমিফাইনালের ২-১ ব্যবধানের জয় এবং গত বছরের উয়েফা নেশনস লীগে ফরাসিদের ৫-৪ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি এখনও টাটকা স্প্যানিশ শিবিরে। এবার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জয়ের হ্যাটট্রিক করতে মরিয়া লা রোহারা সরাসরি ফরাসিদের দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
স্পেনের বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল ম্যাচের আগে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, শেষ দুটি ম্যাচে আমরাই ফ্রান্সকে হারিয়েছি। যদি এই ম্যাচে কাউকে ভয় পেতেই হয়, তবে সেটা ফ্রান্সকে। আমরা মোটেও ভীত নই, দেখা যাক মাঠে কী হয়! ইয়ামালের সাথে সুর মিলিয়ে স্প্যানিশ আক্রমণভাগের অন্যতম সেরা অস্ত্র নিকো উইলিয়ামস ‘এল চিরিঙ্গিতো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওদের ভয় পাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমরা অলরেডি দু’বার ওদের হারিয়ে প্রমাণ করেছি যে আমরাই সেরা। এটাকে আমাদের অহংকার ভাববেন না, এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মানের লড়াই।
এমনকি বিশ্বকাপের যৌথ সর্বোচ্চ ৮ গোল করা ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়েও স্প্যানিশ শিবিরে ভয়ের কোনো বালাই নেই। এমবাপের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি বুক চিতিয়ে বলেছেন, এমবাপে আমাকে একটুও ডরায় না! তবে, এমবাপ্পের গুণগান গাইতেও ভুলেননি তিনি, সবাই ওর সামর্থ্য সম্পর্কে জানে। ও যদি পুরো ম্যাচে নিষ্প্রাণও থাকে, তবে ম্যাচের যে কোনো এক সেকেন্ডে ও পুরো খেলার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ও অনন্য, ঠিক আমাদের ইয়ামালের মতো। তাই ওর বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটই চোখ খোলা রাখতে হবে।
স্প্যানিশ শিবিরের এই একের পর এক আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যকে একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন ফ্রান্সের তারকা ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। ফরাসিদের এই ফাঁদে ফেলে মনোযোগ নষ্ট করার স্প্যানিশ চালকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে কোনাটে বলেন, না, না... সত্যি বলতে ওরা বাইরে কী বলছে তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। ফুটবলে কাউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে আমাদের শান্ত ও বিনয়ী থাকতে হবে এবং ওদের পাতা এই সস্তা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। ওরা যা খুশি বলতে পারে। আমরা আমাদের সেরা প্রস্তুতি নেব এবং ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরই দেখা যাবে আসল রাজা কে!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে একমাত্র দেখায় ফ্রান্স জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। ২০ বছর পর আজ কি এমবাপ্পেরা সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফাইনালে উঠবে, নাকি ইয়ামাল-উইলিয়ামসদের স্প্যানিশ আর্মাডা ফরাসি অহংকার গুঁড়িয়ে ফাইনালে পা রাখবে, তার উত্তর মিলতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা!