২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের রূপকথার মতো ঐতিহাসিক যাত্রা কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হয়ে গেলেও, দেশে ফিরে সব লাইমলাইট একা কেড়ে নিলেন দলটির প্রাণভোমরা আর্লিং হ্যালন্ড। তবে এবার মাঠের কোনো গোল বা ড্রিবলিংয়ের জন্য নয়, বরং আমেরিকা থেকে নিজের বগলদাবায় করে নিয়ে আসা এক আজব ও পরম অদ্ভুত ‘ভ্রমণ সঙ্গী’র কারণে এখন বিশ্বজুড়ে হাসির রোল!
সোমবার যখন নরওয়ে দলের বিমান ওসলোর গার্ডারমোয়েন বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন বিমানবন্দরে অপেক্ষারত হাজারো ভক্ত ও সাংবাদিকেরা হ্যালন্ডের কান্ড দেখে হাঁ হয়ে যান। লাল গালিচায় পা রাখতেই দেখা যায়, ম্যানচেস্টার সিটির এই বিধ্বংসী স্ট্রাইকার এক হাত দিয়ে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন ৭৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি ট্যাক্সিডার্মি বা স্টাফড করা ভামবিড়াল, যার অন্য বগলে আবার গোঁজা রয়েছে একটি আস্ত হুইস্কির বোতল! সোজা কথায় বিড়ালের পুতুল।
এই বিদঘুটে কাণ্ড বাধিয়েই ক্ষান্ত হননি হ্যালন্ড; ওসলো বিমানবন্দরে নামার সেই অদ্ভুত ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, এটা আমাকে অনুসরণ করে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে! কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আমেরিকার জঙ্গল থেকে এই স্টাফ করা মদ্যপ ভামবিড়ালকে ওসলোতে ওড়ানোর পেছনের আসল কাহিনীটা কী?

ঘটনার সূত্রপাত জুলাইয়ের শুরুতে, যখন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে টেক্সাসে আস্তানা গেড়েছিল নরওয়ে দল। টুর্নামেন্টের ফাঁকে একদিন ছুটি পেয়ে হ্যালন্ড সোজা চলে যান ডালাসের বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর’-এ। আমেরিকার দক্ষিণী সংস্কৃতিতে মজে গিয়ে হ্যালন্ড সেখান থেকে একটি কালো কাউবয় হ্যাট, চামড়ার বুট এবং টি-শার্ট কেনেন। কিন্তু পুরো স্টোর ঘোরার সময় হ্যালন্ডের চোখ আটকে যায় দোকানের এক কোণে রাখা অদ্ভুত সব স্টাফড করা বা মমীকৃত পশুপাখির শোপিসের দিকে।
সেখান থেকেই তাঁর নজর কাড়ে এই অদ্ভুত শোপিসটি, যার পোশাকি নাম ‘হুইস্কি র্যাকুন’। ট্যাক্সিডার্মি করা একটি আসল ভামবিড়াল এখানে কাঁচের মদের বোতল জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। হ্যালন্ডের এটি এতটাই পছন্দ হয়ে যায় যে, তিনি ৭৫০ ডলার খসিয়ে এই মদখোর ভামবিড়ালটির সাথে আরও দুটি কাঠবিড়ালির স্টাফড শোপিস কিনে ফেলেন। জুলাইয়ের শুরুতে নিজের স্ন্যাপচ্যাটে এই অদ্ভুত ট্রয়ির ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশন দিয়েছিলেন- ‘গিজাহস’!
হ্যালন্ডের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার তাঁদের দোকানে আসায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সেই ওয়েস্টার্ন স্টোরের মালিকদের মনে। তারা সাথে সাথে হ্যালন্ডের ছবি তাদের ওয়েবসাইটের হোমপেজে ঝুলিয়ে দেয়। আর যায় কোথায়! ‘হ্যালন্ড ইফেক্ট’-এর কেরামতিতে অনলাইনে রাতারাতি উধাও হয়ে যায় ৭৫০ ডলারের সেই হুইস্কি র্যাকুন! বিশ্বজুড়ে এই অদ্ভুত মদের বোতল হাতে ভামবিড়াল কেনার হিড়িক পড়ে যাওয়ায় দোকান কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে আন্তর্জাতিক শিপিং বা হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছে।

অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ে এবং হ্যালন্ড যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তাতে এমন একটি স্মরণীয় স্মারক বা স্যুভেনির তাঁর প্রাপ্যই ছিল। ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ ষোলোর মহাসমর পার করে নরওয়ে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। যদিও শেষ আটে ইংল্যান্ডের কাছে এক বিতর্কিত ২-১ গোলের হারে বিদায় নিতে হয় তাদের, তবে হ্যালন্ড টুর্নামেন্টে ৭টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের নতুন মরশুমে ম্যানচেস্টারে ফেরার সময় এই মদখোর ভামবিড়ালটি হ্যালন্ডের সাথে ইংল্যান্ডে যাবে কি না তা এখনও রহস্য, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আইকনিক এবং হাসির খোরাক জোগানো স্মারক হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি-বিবিসি
