মাত্র দুই বছর আগে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যখন ক্যারিয়ারই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল, তখন কে ভেবেছিল এই মানুষটিই ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের জয়ের মূল কাণ্ডারি হবেন? মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ হাতে নিয়ে স্প্যানিশ ‘মিডফিল্ড জেনারেল’ রদ্রি যেন এক জীবন্ত অলৌকিক রূপকথা লিখলেন!
৩০ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার এবং জিনেদিন জিদানের মতো মহাদৈত্যদের পাশে নাম লিখিয়ে রদ্রি এখন বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার, যিনি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরো, ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান ‘ব্যালন ডি’অর’- এই চারটি বড় ট্রফির সব কটিই জয়ের বিরল ইতিহাস গড়েছেন!
২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে রেকর্ড ৭৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকা এবং স্পেনকে ইউরো জিতিয়ে ব্যালন ডি’অর পাওয়ার পর গুরুতর চোটের কারণে রদ্রির ফুটবল ক্যারিয়ার একপ্রকার অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অন্ধকার গুহা থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর রদ্রি আবেগ চেপে রাখতে পারেননি।
পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলেন, এটা যেন একদম নিখুঁত একটি সিনেমার চিত্রনাট্য! আমি সত্যি এটি আশা করিনি। আমি চাই তরুণ প্রজন্ম দেখুক, যে খেলোয়াড়টি এক সময় স্বর্গের চূড়া ছুঁয়েছিল, সে কীভাবে নরকের অতলে নেমে যাওয়ার পরও আবার সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে। জীবনের প্রতিটি বাধার মুখোমুখি হয়ে তা জয় করার এক মহা শিক্ষা লুকিয়ে আছে এতে।
স্পেনের এই ঐতিহাসিক ডাবল ট্রফি জয়ের নেপথ্যে দলীয় ঐক্যকেই আসল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রদ্রি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে বিকল্প ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের সেই জয়সূচক গোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রদ্রি বলেন, এটাই আমাদের জাতীয় দলের আসল গোপন অস্ত্র। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাই। আর দিনশেষে, ঈশ্বর আপনাকে আপনার সাহসিকতার পুরস্কার দেবেনই। আমরা এখন নবম স্বর্গে ভাসছি!
টুর্নামেন্টের ট্রফি ধরে রাখা কঠিন ছিল উল্লেখ করে রদ্রি আর্জেন্টিনার প্রশংসা করতেও ভুল করেননি। তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এটি ছিল সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট। আমরা ফুটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দলকে হারিয়েছি। তারা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ঠিকই, তবে তাদের ডিফেন্স ভাঙা অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে, স্পেন দল হিসেবে কতটা ভালো, তা আজ সবাই দেখেছে। শেষ পর্যন্ত এই ফলাফল একদম ন্যায্য হয়েছে।
আর্জেন্টাইনদের কড়া প্রতিরোধ, মেসির শেষ স্বপ্নভঙ্গ আর অন্যদিকে চোটের ভয়াবহ নরক থেকে উঠে এসে রদ্রির এই মহাকাব্যিক পুনরাগমন, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল রদ্রির নামকে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখল!