আইসিসি’র ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে এই মুহূর্তে তিন নম্বর দল পাকিস্তান। আর নেদারল্যান্ডস রয়েছে ১৪ নম্বরে। এতেই পরিষ্কার শক্তি ও সামর্থ্যে এই দুই দলের পার্থক্য বিস্তর। তারপরও ডাচদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে চিন্তায় আছে পাকিস্তান। ইনজুরির সাথে শীর্ষ ক্রিকেটারদের অফ ফর্ম।
শুক্রবার হায়দারাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু আগে পাকিস্তান তাই মরিয়া হয়ে আছে নিয়মিত একাদশকে মাঠে নামাতে। আশা করছে তারকা খেলোয়াড়রা ফর্ম ফিরে পাবে। কারণ কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ বাবর আজমরা। প্রতিটি ম্যাচকেই দেখতে চায় সমান গুরুত্বে।
এশিয়া কাপের শুরুতেই বিদায় নেয়ার পর ও দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়ের পর, বিশ্বকাপের শুরুতে ভালো করতে হলে অবশ্যই পাকিস্তানকে ফিরতে হবে তাদের আসল ফর্মে। সবার আগে ওপেনিং নিয়ে ভাবাচ্ছে দলটিকে। ইমাম-উল-হকের গড় ৫০ রান হলেও, তার স্ট্রাইক রেট ৮২। যা আরও বাড়াতে চায় দল।
ইমাম নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুরুটা করবেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু তার সঙ্গী কে হবেন তা নিয়ে ধন্ধে আছে পাকিস্তান। মারকুটে ফখর জামানের ব্যাটে বিধ্বংসী ক্ষমতা অনেক দিন থেকেই অনুপস্থিত। ফলে ফখর না আবদুল্লাহ শফিক, এই দুইয়ের মধ্যে একজন বেছে নিতে হবে ওপেনিংয়ের জন্য।
তবে আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসেবে খ্যাত পাকিস্তান দলের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, তিন ও চার নম্বরে অধিনায়ক বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান দুর্দান্ত ফর্মে। ইফতিখার আহমেদও রান পাচ্ছেন, কিন্তু সালমান আগা মিডল অর্ডারে জায়গা পান কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।
যদি প্রস্তুতি ম্যাচের কথা ধরা হয়, তাহলে আশা করা হচ্ছে শুক্রবারের ম্যাচটিও একটি হাই স্কোরিং ম্যাচ হতে যাচ্ছে। কারণে এবারের উইকেটগুলো বেশ ফ্লাট। বোলারদের জন্য ভুলের সুযোগ কম। ভালো বল না হলে ব্যাটাররা সুবিধা নিতে ছাড়বেন না। তবে পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ভারতে খেলার অভ্যাস না থাকা।
অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, মাঠের সীমানা ছোট। বোলারদের জন্য কোনো সুবিধা নেই। বোলিং কিছুটা খারাপ হলেই ব্যাটাররা তা কাজে লাগাবেন। ফলে হাই স্কোরিং ম্যাচ হতে পারে। আর ব্যাটারদেরকেও সে অনুযায়ী খেলতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা শুরুটা ভালো করতে চাই।
নাসিম শাহ’র অনুপস্থিতে পাকিস্তানের বোলিং বিভাগকে ধুঁকতে হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। মিডিয়াম পেসার শাদাব খানও টাচে নেই। আর শাহীন আফ্রিদির ধার কমছে কিনা, সেটা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ফ্লাট উইকেটে বড় পরীক্ষা দিতে হবে বোলারদের।
ফিল্ডিং বিভাগে পাকিস্তানের যথেষ্ট লিকেজ আছে। সেসব কাটিয়ে উঠতে চাইবে বাবররা। কারণে আসরের একমাত্র আইসিসি সহযোগী দল নেদারল্যান্ডসকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। বড় দলগুলোর সাথে লড়াই করার আগে আসরের প্রথম দিকে তাদের মুখোমুখি হওয়াই পাকিস্তানের পক্ষে ভালো।
নেদারল্যান্ডস ২০১১ সালের পর তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে। ভারতে আসার পর তাদের প্রস্তুতিতেও বেশ ঘাটতি আছে, কারণ দু্টি ওয়ার্ম আপ ম্যাচেই বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। কোয়ালিফায়ারে একটি ম্যাচ খেলে তারা। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নেয় মূল পর্বে।
ওয়েসলি বারেসি, বর্তমান নেদারল্যান্সের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। তার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে অবসর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ বছরের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার রোয়েলফ ভ্যান ডার মারওয়ে দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।