শুধু সাকিব নয়, বাংলাদেশ দলে কোথাও ব্যাকআপ নেই!

বাংলাদেশ দলের কোথাও কোনো ব্যাক-আপ নেই। আর ইস্যু যদি হয় সাকিব আল হাসান তবে তো কথাই নেই। পারফরমার সাকিবের পাশাপাশি তারা ক্যাপ্টেন্সির ব্যাক-আপ খুঁজে পেতেই ঘাম ছুটছে বোর্ডের। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ তো আছেই, এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে কে দেবেন বাংলাদেশের নেতৃত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট বোর্ডের কাছে। 

বিশ্বকাপের আগে সেই মার-মার কাট-কাট সাকিব। পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে যে ক্যাপ্টেন্সি নিয়েছিলেন টুর্নামেন্ট শেষে সেটা যে ছেড়ে দেবেন, তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত। ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে শুধু দায়িত্বের চাপ নয়, কেবল খেলাটাই যে এনজয় করে যেতে চান তিনি।

তবে কয়েকটা বিষয়ে আছে সংশয়। সাকিব ক্যাপ্টেন্সি ছাড়তে চেয়েছেন। সেটা কি শুধু ওয়ানডের, নাকি বিশ্বকাপের পর তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব থেকেই সরে দাঁড়াবেন? সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে? সাকিব সব ছাড়তে চাইলে বিকল্পই বা কে হবেন? 

একটা বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই ওয়ানডেতে সাকিবের নেতৃত্ব অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। বাংলাদেশের ওপর মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁয়ের মতো যেকে বসেছে টাইগার অলরাউন্ডারের ইনজুরি। সেটা এতোটাই গুরুতর যে বিশ্বকাপ তো গেলোই, এরপর নিউজিল্যান্ডের সাথে টেস্ট সিরিজেও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। ওয়ানডের মতো বাধ্য হয়েই তাই বিসিবিকে খোঁজ করতে হচ্ছে টেস্ট দলের অধিনায়কও। 

ফরম্যাট যেটাই হোক, ক্যাপ্টেন্সির অপশন তো খুজতে হচ্ছেই। তামিম ইকবাল আছে ইনজুরিতে, ফিট হতে পারবেন কবে সেটা অনিশ্চিত। তবে যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন, তাতে আবারও দলের দায়িত্ব নেবেন এমনটা ভাবাই অন্যায়। মুশফিকও তার অতীত অভিজ্ঞতার কারণে নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী হবেন না। মূল ক্যাপ্টেনের অনুপস্থিতিতে লিটন টুকটাক দায়িত্ব নিয়েছেন বটে, তবে গেটিস ক্যাপ্টেন হিসেবে থাকতে চান না, তার ভেতরে নেতৃত্ব গুণের ঘাটতি আছে। 

এখন বোর্ডের হাতে দুই অপশন। মেহেদি মিরাজ আর নাজমুল শান্ত। ক্যাপ্টেন্সির অভিজ্ঞতা মিরাজের আছে, তাছাড়া রিসেন্টলি তার পারফরমেন্সও আপ টু দ্য মার্ক। অন্যদিকে শান্ত বিশ্বকাপে সাকিবের ডেপুটি, যার ওপর ভরসা করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তার মানে টাইগার ক্রিকেটে পঞ্চপান্ডব বলয়ের বাইরে এসে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।

তবে জানা কথা, দিন শেষে সাকিবের অভাব পূরণ হওয়ার নয়। সেটা তার অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি ক্যাপ্টেন্সির ক্ষেত্রেও। সাকিবের এই সরে যাওয়ায় বাংলাদেশ দলে যে শূন্যতা তৈরি হতে চলেছে, তরুণরা সেটা কতো ভালোভাবে পূরন করতে পারবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।