ইডেন গার্ডেনে ভিন্ন এক অস্ট্রেলিয়াকে দেখার হুমকি!

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বিশ্বে সব সময়ই সমীহ জাগানোর দল। সবচেয়ে বেশি পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে শুধু অসিদেরই। এই রেকর্ড আরও উন্নত করার হাতছানি তাদের সামনে। সেজন্য জিততে হবে দুইটি ম্যাচ। প্রথমে জিততে হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায় দ্বিতীয় সেমিতে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেনে।

এবারের  আসরে অস্ট্রেলিয়া শুরুটা করেছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে। তবে, এরপরেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। টানা সাত ম্যাচে জয় পেয়ে সেমিতে নিজেদের জায়গা করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া সমান সাতটি করে জয় পেয়েছে, পয়েন্টও সমান, তবে নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

শুধু রেকর্ড পাঁচবার বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ই নয়, ফাইনালে উঠেছে আরও দুইবার এবং সেমিতে খেলেছে একবার। অর্থাৎ এটি তাদের অষ্টম সেমিফাইনাল। ভারতের মাটিতে অসিদের মিশন খুব একটা ভালোভাবে শুরু হয়নি। প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক ভারতের কাছে ৬ উইকেটের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার ১৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ।

austulia1

প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কি করে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়, সেটি অসিদের কাছ থেকে শিখতে পারে যে কোনো দল। আর দুই হারের পর টানা সাত ম্যাচ জিতে সেই উদাহরণ আবারও দেখিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচে যেভাবে জিতেছে, তাতে অসিদের নিয়ে আলাদা করে সবাইকে ভাবতেই হচ্ছে। তবে প্রতিপক্ষের চাইতে সেমির আগে নিজেদের নিয়েই ভাবছে অস্ট্রেলিয়া।

দলের অন্যতম পেসার মিচেল স্টার্ক জানিয়েছেন, সেমির বড় ম্যাচ নিয়ে যথারীতি শান্ত থাকতে চাইছে তার দল। চাইছে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠতে। তিনি বলেন, চাপের মধ্যে সেরাটা নিংড়ে দেয়াই হলো আমাদের বৈশিষ্ট্য। সবাই যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছে। তারই ফল হিসেবে আমরা সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লিগ-পর্বের সেই হার এখন অতীত। সেটা ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

আসরে শুরুটা খারাপ হওয়া প্রসঙ্গে মিচেল স্টার্ক বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে এখানে আসার ঠিক আগে যারা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল, তাদের জন্য অন্তত ১৫ বার বিমানে চড়তে হয়েছিল। একইসঙ্গে ১০ থেকে ১১ সপ্তাহ কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। দুটি ম্যাচে খারাপ করার পর আমরা বিশ্বকাপের আবহটা ধরতে পারি। আমরা শান্ত থেকে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। ফাইনালের টিকেট পেতেই ইডেনের মাঠে নামতে যাচ্ছি।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে এখনো শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৭ (ভারত), ১৯৯৯ (ইংল্যান্ড), ২০০৩ (দক্ষিণ আফ্রিকা), ২০০৭ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও ২০১৫ (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড) বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দলটি রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা থেকে আর মাত্র দুই ম্যাচ দুরে রয়েছে। তবে দলপতি প্যাট কামিন্স মনে করছেন, ফাইনালে যে দুইটি দল খেলবে, তাদের একটি নিশ্চিতভাবেই অস্ট্রেলিয়া হবে।

তিনি বলেন, এটা বিশ্বকাপ। এখানে শুরুতেই সবকিছু শেষ, এমন ভাবার কোন কারণ নেই। আমি জানতাম, আমরা ফিরে আসব। সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি আমাদের। আর এখন আমাদের পেছনে ফিরে তাকানোরও কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের নজর শুধুই সামনে। আহমেদাবাদের ফাইনালে একটা দল অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া হবে।

austulia2

লীগ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার নিয়ে কামিন্স বলেন, অতীত পরিসংখ্যান আপনাকে ম্যাচ জেতাবে না। গিভেন ডে তে যারা ভালো করবে, তারাই জয়ী হবে। প্রথম পর্বের ম্যাচে যে ভুলগুলো হয়েছিল, নিশ্চিত থাকতে পারেন, এ ম্যাচে সেটা হবে না। কলকাতায় আফ্রিকানরা নতুন অস্ট্রেলিয়াকে দেখবে। আর বৃষ্টি নিয়ে আমরা এখনই ভাবছি না, সেটা যখন হবে তখন দেখা যাবে।

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে প্রথম দেখা হয় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই ম্যাচে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২১৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও থামে ২১৩ রানে। ম্যাচ টাই হলে রান রেটে এগিয়ে থাকার কারণে ফাইনালে পৌঁছে যায় অসিরা।

সবশেষ ২০০৭ বিশ্বকাপ আসরের সেমিতেও প্রোটিয়াদের হারায় অসিরা। আর ইডেনের হবে বিশ্বকাপের তৃতীয়বার এই দুই দলের সেমির লড়াই।