বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১০ দিন! ঠিক এই অন্তিম মুহূর্তে এসে ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে চলা দীর্ঘ মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটাল ফিফা।
রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ ভেঞ্চারের মতো বড় হাঙরদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ভারতীয় সম্প্রচার স্বত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে জি এন্টারটেইনমেন্ট। এই মেগা ডিলের ঘোষণার পরদিনই শেয়ার বাজারে ‘জি’-এর শেয়ারের দাম হু হু করে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।
আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখনো গোপন রাখা হলেও ভেতরের খবর, ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের যৌথ প্যাকেজের জন্য ফিফা প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ডলার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত বাজার বুঝে দর কমিয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলারে রাজি হয়েছে।
এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের জন্য ভায়াকম-১৮ (বর্তমান জিওস্টার) প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। তবে এবার মুকেশ আম্বানির জিওস্টার মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের অফার দিলে ফিফা তা সরাসরি নাকচ করে দেয়।
অন্যদিকে ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের সম্প্রচারক সোনি আলোচনায় বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিড বা ডাকই দেয়নি। আইপিএল থেকে শুরু করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের স্বত্ব কব্জা করে রাখা জিওস্টারের একচেটিয়া স্পোর্টস বাজারে এই ডিলের মাধ্যমে ‘জি’ শক্ত এক কামড় দিল বলা চলে।
আসলে এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতীয় ব্রডকাস্টারদের অনাগ্রহের মূল কারণ ছিল ‘টাইম জোন’। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতের দর্শকদের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। কিন্তু এবার খেলা হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে।
ফলে অধিকাংশ ম্যাচই ভারতের ঘড়িতে গভীর রাতে বা ভোরবেলা সম্প্রচারিত হবে। এই মাঝরাতের ম্যাচের কারণে বিজ্ঞাপনদাতার অভাব হতে পারে ভেবেই বড় বড় কোম্পানিগুলো হাত গুটিয়ে নিয়েছিল, যা ফিফাকে বেশ বিপাকে ফেলে দেয়।
তবে জি এন্টারটেইনমেন্ট শুধু এই একটি বিশ্বকাপ নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি; তারা খেলেছে লম্বা রেসের ঘোড়া। ফিফা ও জি-এর যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবারের এই চুক্তিটি আগামী ৮ বছরের জন্য বৈধ (২০৩৪ পর্যন্ত)। এর আওতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ছাড়াও ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার মোট ৩৯টি মেগা ইভেন্ট ভারতে সরাসরি সম্প্রচার করবে ‘জি’। গভীর রাতের ঘুম হারাম করে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা এখন জি-এর পর্দায় মেতে উঠবে বিশ্বযুদ্ধের উন্মাদনায়!
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের টানাপোড়েনে স্বাগতিক মেক্সিকো
বিশ্বকাপের জন্য ইকুয়েডরের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা