টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই মাস আগে পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে আবারও ফিরে এসেছেন তারকা ব্যাটার বাবর আজম। রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবি সে খবর নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে মাত্র একটি সিরিজ শেষে দেশটির টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব হারালেন ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি।
গেলো জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে পাকিস্তান ১-৪ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর পিসিবিতে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে জোর গুঞ্জন ওঠে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার। শেষ পর্যন্ত সেই গুজবই সত্য হলো। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশের পর বাবরকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির সঙ্গে এক বৈঠকে বসেছিলেন বাবর আজম। সেখানে বাবরকে আবারও দলে দায়িত্ব নিতে বলা হয়। প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করে বাবর আজম বোর্ড প্রধানের কাছে তার মেয়াদের বিষয়ে আশ্বাসের পাশাপাশি টেস্ট দলেও দায়িত্ব চান।
এ সময় নকভি বাবরকে তার মেয়াদ সম্পর্কে আশ্বস্ত করলেও, টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। মারকুটে ওপেনারকে তিনি বলেন, আগে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব সামাল দিতে হবে। আর টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নকভি বাবরকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, লাল বলের বিদেশি কোচ নিয়োগের পরে টেস্ট অধিনায়কত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পিসিবি। এনিয়ে তারা তাড়াহুড়ো করতে চান না। কারণ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের কোন টেস্ট সিরিজ নেই, দল গুছিয়ে নেয়ার যথেষ্ট সময় পাবে পিসিবি।
পিসিবি সূ্ত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তানের পাঁচ নির্বাচক মুহাম্মদ ইউসুফ, আসাদ শফিক, ওয়াহাব রিয়াজ, আব্দুল রাজ্জাক ও বিলাল আফজাল গেলো শনিবার সন্ধ্যায় কাকুলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে শাহিন শাহ আফ্রিদির ষঙ্গে দেখা তাকে বেশি করে বোলিংয়ে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেয়।
নির্বাাচকরা শাহিনকে বুঝিয়েছেন, সাদা বলের নেতৃত্ব এক ব্যাটারের হাতেই থাকা ভালো। শাহিন নির্বাচনদের কথায় আপত্তি করেননি, মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি একথা জানাতে ভুল করেননি যে, শুধুমাত্র একটি সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তার অধিনায়কত্ব বিচার করাটা অন্যায় কাজ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসাবে শাহিন শাহ আফ্রিদির শুরুটা ভালো হয়নি। নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে পাকিস্তান দল। পাকিস্তান সুপার লিগে আফ্রিদির নেতৃত্বে চরমভাবে ব্যর্থ হয় লাহোর কালান্দার্স। এর মধ্যে বোর্ডেও বড় পালাবদল ঘটে যায়। দায়িত্বে আসেন মহসিন নাকভি।
কিছু দিন আগে পিসিবি চেয়ারম্যান বৈঠক করলেও দলের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেননি শাহিনের সঙ্গে। এতে শাহিন ক্ষেপেছিলেন। তার ধারণা ছিলো, যদি তাকে সরাতেই হয়, তাহলে বোর্ডের উচিৎ ছিলো কথা বলার। তিনি নিজেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে চাইছেন বলে তার ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।