মিরপুরে প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে যেনতনভাবে হারলেও বাংলাদেশের পাওয়া একেবারে কম নয়। মুশফিকুর রহিমের ৬০০০ রানের সঙ্গে তাইজুলের ২০০ উইকেটের মাইলফলক। মেহেদি মিরাজের লড়াকু ৯৭ রানও দেখেছে টেস্ট। কিন্তু এরপর দল জিততে না পারায় হতাশ মিরাজ।
ম্যাচ শেষে যেন সেই হতাশার সূরই শোনা গেলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়া মিরাজের গলায়। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, আমাদের ব্যর্থতা, আমরা স্বীকার করছি। আমরা ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারিনি।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইনিংসের রানটা প্রথম ইনিংসে হলে ম্যাচটা ভিন্ন হতে পারত। দুই সেশনের আগেই অল-আউট হয়ে গিয়েছি। এ জন্য পিছিয়ে পড়েছি। আর টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসবের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে নিজের বোলিংয়ের সমালোচনাও করেছেন মিরাজ।
তিনি বলেন, আমি আর নাঈম যদি আরও ভালো বোলিং করতাম, তাহলে প্রশ্ন উঠত না। আমিও ভালো করিনি। আমি যদি ভালো করতাম, যে জিনিসটা দল প্রত্যাশা করে, ৬-৭ উইকেট নেব, ম্যাচ জেতাব। কিন্তু আমি প্রথম ইনিংসে শুরুর দিকে উইকেট নিতে পারিনি। তখন আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
মিরপুরের উইকেট প্রত্যাশা মতো আচরণ করেনি বলে জানান মিরাজ। তার মতে তিনি নিজে ও নাঈম ভালো বোলিং করতে পারেনি। যে কারণে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশি রান করে ফেলেছে। প্রত্যাশা ছিলো উইকেট টার্নিং হবে। মিরপুরে স্পিনাররা কর্তৃত্ব করে। কিন্তু কন্ডিশন পরিবর্তন হয়ে গেছে।
মিরাজ জানান, ব্যাটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। যে কারণে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা, ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। যে কারণে ব্যাটিংয়ে আমরা খারাপ করছি। আমার মনে হয়, উপরের দিকে ভালো ব্যাটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, লোয়ারের ব্যাটারদের নতুন বল খেলতে হলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ-ছয় নম্বর ব্যাটারের নতুন বল খেলতে হলে সেটা কঠিন। টপ অর্ডার কীভাবে সফল হতে পারে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, সামনের টেস্টগুলোতে বুঝতে পারবো কোথায় ঘাটতি আছে।
ঢাকা টেস্টে বড় হারের কারণ হিসেবে দল হিসেবে খেলতে না পারা এবং ওপর থেকে রান না আসাকে দায়ী করেছেন শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়া মিরাজ। তিনি বলেন, উপর থেকে রান আসলে দলের উপকার হতো। আমি যে রানটা করলাম, সেটা উপরে কেউ করতে পারলে টিম ভালো অবস্থায় থাকতো।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে প্রশ্ন, কীভাবে চাপের মুখে ভালো করেন তিনি। জবাবে, মিরাজ জানালেন চাপের মুখেই বেশি উপভোগ করেন তিনি। এমনকি ওই সময়ে ভালো করলে হিরো হবার সুযোগ থাকে। আমি সব সময় কঠিন অবস্থা উপভোগ করার চেষ্টা করি। বেশি কিছু চিন্তা করি না।
তিনি বলেন, ব্যাটারের জন্য সেঞ্চুরি মিস মানেই মন খারাপ। আমার কাছে অবশ্যই খারাপ লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা আমি যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছিলাম সেটা যদি পূরণ করতে পারতাম তাহলে আরও ভালো লাগতো। আমি চেয়েছিলাম, ইনিংসটা যতদূর নিয়ে যেতে পারি। নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে চিন্তা করিনি।
বাংলাদেশ ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলবে। ওই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার কথাও বলেন স্পিন অলরাউন্ডার মিরাজ।