ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ তারা।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই ম্যাচের ফয়সালা করে নেয় সফররত প্রোটিয়ারা। চতুর্থ ইনিংসে ১০৬ রানের লক্ষ্য পার হতে ২২ ওভারের বেশি খেলতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ফলে এক শূণ্যতে সিরিজে এগিয়ে গেলো তারা।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং কোনও বিভাগেই দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে, এই নিয়ে দশ বছর পর উপমহাদেশের মাঠে টেস্ট জিতল প্রোটিয়ারা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে গলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিলো তারা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে বৃষ্টির কারণে তাদের দুই টেস্টই ড্র হয়। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো অজেয় থাকল বাংলাদেশের কাছে। ১৫ টেস্ট খেলে তাদের কাছে ১৩টাই হারল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
৭ উইকেটে ২৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ চতুর্থ দিনে টিকতে পারেছে কেবলম ২৫ মিনিট, যোগ করতে পারে আরও ২৪ রান। ৩০৭ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন ৯৭ রানে। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার নব্বইয়ে আটকা পড়লেন তিনি।
বাংলাদেশের জয় কেবল অঘটন ঘটলেই সম্ভব ছিল। তাইজুল-হাসানদের অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো। তবে তার কিছুই হয়নি। জোড়া উইকেট নিয়ে তাইজুল হারের ব্যবধান কমালো বটে; তবে জয় রয়ে গেল অধরাই। ১০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে প্রোটিয়ারা। ৯.৪ ওভারেই তুলে ফেলে ৪২ রান। এরপর তাইজুল ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। ২৭ বলে ২০ রানে আউট হন এইডেন মার্করাম।
এরপর দলীয় ৭১ রানে আরেক ওপেনার ডি জর্জেকেও ফেরান তাইজুল। জর্জে ফেরেন ৪১ রান করে। এর পর ডেবিড বেডিংহাম ১২ রান করে তাইজুলের তৃতীয় শিকার হলেও ট্রিস্টান স্টাবস ৩৭ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে নিশ্চিত করেন জয়। ২২ ওভারেই জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারি তাইজুল দ্বিতীয় ইনিংসেও নেন তিন উইকেট। তবে, ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক রাবাদা। যদিও সেরা হয়েছেন কাইল ভেরেইনা।
এর আগে ৭ উইকেটে ২৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। তবে মাত্র ১ রান যোগ হতেই ফেরেন নাইম হাসান (১৬)। এরপর তাইজুল ইসলামও ৭ রান করে ফেরেন মুল্ডারের শিকার হয়ে। এরপর মিরাজও থামেন আক্ষেপ নিয়ে। ১৯১ বলে ৯৭ রানে তাকে থামান রাবাদা। ফলে সাদা পোষাকে নিজের দ্বিতীয় শতক পাওয়ার অপেক্ষা বাড়ল মেহেদি মিরাজের। মিরাজের বিদায়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
স্কোর: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১০৬। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৩০৮। বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ২৮৩/৭) ৮৯.৫ ওভারে ৩০৭ (মিরাজ ৯৭, নাঈম ১৬, তাইজুল ৭, হাসান ৪*; রাবাদা ১৭.৫-৪-৪৬-৬, মুল্ডার ১৩-৩-৪০-১, মহারাজ ৩৭-১০-১০৫-৩, পিট ১৯-০-৯৫-০, মার্করাম ৩-১-৭-০)। দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১০৬): ২২ ওভারে ১০৬/৩ (ডি জোর্জি ৪১, মার্করাম ২০, স্টাবস ৩০*, বেডিংহ্যাম ১২, রিকেলটন ১*; হাসান ৫-২-১২-০, তাইজুল ১১-১-৪৩-৩, মিরাজ ২-০-১৩-০, নাঈম ২-০-২০-০, মুমিনুল ২-০-১৬-০)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে জয়ী।
বিসিএস দেয়া যাবে সর্বোচ্চ তিনবার