লিজেন্ডারি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু হেডেন এক মারাত্মক প্রতিজ্ঞা থেকে সদ্য রক্ষা পেয়েছেন। চলমান অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুট যদি সেঞ্চুরি করতে না পারতেন, তবে হেডেন মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের চারদিকে উলঙ্গ হয়ে হাঁটতেন!
কিন্তু গাব্বায় দ্বিতীয় টেস্টে রুটের সেই কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিটি হেডেনকে এই চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছে। আর এই ঘটনা নিয়েই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেডেনের কন্যা, ক্রিকেট উপস্থাপিকা গ্রেস হেডেন, যিনি মজা করে বলেছেন ভবিষ্যতে এমন প্রতিজ্ঞা করলে তিনি তাঁর বাবাকে তাজ্য করবেন।
ম্যাথু হেডেনকে এমসিজি-তে উলঙ্গ হাঁটা থেকে বিরত রাখায় গ্রেস হেডেন জো রুটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রথম ইনিংসে রুট অপরাজিত ১৩৮ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন।
গ্রেস হেডেন এক ভিডিওতে বলেন, রুট সেঞ্চুরি করায় আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। এটা আমার জীবনের প্রথম মুহূর্ত, যখন আমি অ্যাশেজ সিরিজে একজন ইংরেজের ভালো খেলা চেয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, রুট, ওহ মাই গডনেস, মন থেকে ধন্যবাদ তোমায়। আমার বাবা যদি ভবিষ্যতে কখনও আর কোনো কিছুর চারদিকে উলঙ্গ হয়ে দৌড়ানোর কথা বলেন, আমি তাকে তাজ্য করব।
এর আগে সেঞ্চুরির পরে গ্রেস হেডেন ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছিলেন যেখানে তিনি রুটকে সবার চক্ষুলজ্জা বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
এদিকে, সিরিজ ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্ট হারের জন্য ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের কৌশল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ম্যাথু হেডেন।
আর্চার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়েছিলেন, যার পরপরই স্মিথ আর্চারকে কিছু বাউন্ডারি মেরে জবাব দেন।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হেডেন বলেন, জোফরা আর্চারকে দেখতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। পার্থে সে মাঝে মাঝে গতি বাড়িয়েছিল। কিন্তু মূলত, প্রথম ইনিংসে (ব্রিসবেনে) যখন আসল প্রয়োজন ছিল, তখন সে তার ওভারগুলোর বেশিরভাগই ১৩০-১৩৬ কিমি গতিতে বল করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সেই গতির তারতম্য দেখা, আর তারপর শুধু মৌখিক আক্রমণ আর ভুয়া হাসি- এটা কখনোই জোফরা আর্চারকে তার নিজের ভক্তদের কাছেও প্রিয় করে তুলবে না, স্টিভ স্মিথের মতো দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের কাছে তো নয়ই।
হেডেন উপসংহারে বলেন, যারা খেলাটি খুব ভালোভাবে বোঝে, তাদের কাছে নম্রতার অভাব এবং একগুচ্ছ অহংকারীতা দেখিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া খুবই হতাশাজনক ছিল।