অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। বিসিবি’র অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে আইসিসিও সোজা জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের পরিবর্তে এই আসরে খেলবে স্কটল্যান্ড। সরকারের একক সিদ্ধান্তে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন এক চরম সংকটের মুখে।
সাত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ভারত সফরে যেতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছিল।
কিন্তু আইসিসি সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম পার হওয়ার পর আইসিসি স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। শুধু গ্রুপ পর্বে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ তিন থেকে পাঁচ লাখ ডলার হারাবে। আইসিসির আইন অনুযায়ী, যথাযথ কারণ ছাড়া আসর বর্জন করায় বিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে আইসিসি’র বার্ষিক আয়ের অংশীদারিত্বে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বর্জনের শাস্তি হিসাবে বাংলাদেশ প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার হারাতে পারে, যা বিসিবি’র মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। বলা বাহুল্য, এই অর্থই বিসিবির মূল আর্থিক ভিত্তি।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। খেলোয়াড়রা ভারতে গিয়ে খেলতে আগ্রহী থাকলেও বোর্ড শুধু সরকারের সিদ্ধান্তে অটল ছিল।
ভারতীয় ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসজি ও এসএস-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর সাথে খেলোয়াড়দের চুক্তি এখন পর্যালোচনার মুখে। এতে শীর্ষ তারকাদের ব্যক্তিগত আয় কয়েক মিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে।
আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারত সফরে কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তাই বাংলাদেশের এই দাবিকে তারা ভিত্তিহীন বলে মনে করছে। বিসিবি’র এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এই সিদ্ধান্ত এক ঐতিহাসিক ‘ক্রসরোড’ বা সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও বিশাল আর্থিক ক্ষতি- এই দুইয়ের যাঁতাকলে এখন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা।