২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) ঘিরে ওঠা ফিক্সিংয় বা ম্যাচ গড়াপেটার গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হলো। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলের ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার দায়ে ক্রিকেটারসহ কমপক্ষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও পাচ্ছেন তারা।
গেল বছর বিপিএল চলার সময়ই ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশদ রিপোর্ট জমা দেয়। পরবর্তীতে বিসিবির ইনটেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল এই রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতির প্রমাণ পান। তদন্তে মূলত জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব দেয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করার মতো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিসিবির অভিযোগের তালিকায় প্রধান নাম ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী কোডের ধারা অনুযায়ী সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমান ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা সৃষ্টি এবং তথ্য ও যোগাযোগের প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরেক টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও সরাসরি বাজিতে অংশ নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তদের বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ দিন সময় দেয়া হয়েছে।
তদন্তের জাল শুধু ১২তম আসরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারাদেশ বা ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন এবং খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। অভিযুক্ত সামিনুর রহমান ইতিমধ্যে তাঁর দোষ স্বীকার করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।
এবারের বিপিএলের নিলামে এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো পরিচিত মুখদের দেখা না যাওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। জানা গেছে, ২০২৫ আসরের ফিক্সিং সন্দেহের কারণেই তাঁদের মতো বেশ কিছু ক্রিকেটারকে এবারের আসরে খেলতে দেয়া হয়নি। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁদের নাম আসেনি, তবে ইনটেগ্রিটি ইউনিটের কঠোর নজরদারি যে ছিল তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।
বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে তারা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। এই পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নোটিশের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত বোর্ড থেকে আর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে না। তবে বিসিবির এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটে শুদ্ধি অভিযানের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ নিয়ে আমেরিকায় হোটেল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ডাকে উত্তাল আয়ারল্যান্ড