আইসিসির সুরেই সুর মেলালো ভারত, চাপে পাকিস্তান!

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা সোমবার জানিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার যে আহ্বান জানিয়েছে, তার সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত।

রোববার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার এক বিস্ময়কর ঘোষণায় জানায়, ২০ দলের এই আসরে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। সুনির্দিষ্ট কারণের কথা না জানালেও, তবে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে আসর থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি।

পাকিস্তানের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই আইসিসি একটি বিবৃতি প্রদান করে। সেখানে পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ দেশটির ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রসঙ্গে সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্লা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি না হলেও আইসিসির অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইসিসি এই বিষয়ে একটি বড় বিবৃতি দিয়েছে। তারা খেলোয়াড়ি সুলভ আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা আইসিসির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আইসিসির সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত বিসিসিআই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

সাম্প্রতিক এই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপড়েনকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পাকিস্তান যদি সত্যিই এই ম্যাচ বর্জন করে, তবে ভারত বিনা লড়াইয়ে দুই পয়েন্ট পাবে এবং পাকিস্তানের ‘নেট রান রেট’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি বারবার পুরো বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ভারত থেকে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার দাবি না মেনে আইসিসি বাংলাদেশের প্রতি ‘অন্যায়’ করেছে। তবে রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ভারতের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পাকিস্তান

পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আইসিসি তাদের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোকেও প্রভাবিত করবে। পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা ছিল; ফলে ম্যাচ থেকে সরে আসার মতো কোনো জোরালো যুক্তি পিসিবি-র কাছে নেই।

উল্লেখ্য, আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে তারা পিসিবির কাছ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি।
এই বিতর্ক দুই দেশেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত ও পাকিস্তান- উভয় দলই বিশ্বকাপের 'গ্রুপ এ'-তে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। একই দিনে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে ভারত।