টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। দুই পরাশক্তির এই লড়াই কেবল ফাইনালের টিকেট পাওয়ার নয়, বরং ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এক নতুন যুগের সূচনা করার। নিজেদের অভিযানে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা দুই দলের সামনেই এখন লক্ষ্য ঐতিহাসিক তৃতীয় শিরোপা ছোঁয়া।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শুরু হতে যাওয়া এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বইছে টানটান উত্তেজনা।
২০২২ এবং ২০২৪ সালের সেমিফাইনাল দ্বৈরথগুলোর পর এবার কি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের ঘরে ফেরার পালা? ঘরের মাঠে বিশাল প্রত্যাশার জোয়ারে ভাসা টিম ইন্ডিয়া এখন তৃতীয় শিরোপার রেকর্ড গড়া থেকে মাত্র দুই ধাপ দূরে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের যাত্রাটা ছিলো অবিশ্বাস্য। গ্রুপ পর্বে নেপাল ও ইতালির কাছে নাজেহাল হওয়ার দশা থেকেও তারা টানা পঞ্চম বড়ো টুর্নামেন্টের শেষ চারে নাম লিখিয়েছে।
ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস স্বীকার করেছেন, নিখুঁত খেলা নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ চিন্তিত নয়। কারণ দুই দলই তাদের সেরা ফর্মে না থেকেও খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখানে এসেছে।
আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর ভারত কিছুটা চাপে থাকলেও ইডেন গার্ডেনে সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রিঙ্কু সিংয়ের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে স্যামসন ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের যে ইনিংস খেলেছেন, তা চলতি বছরে তার আগের সাত ইনিংসের মোট রানের চেয়েও বেশি।
ইংল্যান্ডের জন্য স্যাম কারানের ফর্মে ফেরা বড়ো স্বস্তি। তবে বড়ো দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে জস বাটলার ও ফিল সল্টের ওপেনিং জুটি। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রভাবশালী জুটি হিসেবে নাম থাকলেও সাত ম্যাচে তারা মিলে করেছেন মাত্র ৮৪ রান। বাটলারের ব্যাটিং ফর্ম এখন যেন এক অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে।
বোলিং আক্রমণে ভারত বেশ বৈচিত্র্যময়। জসপ্রীত বুমরাহ বর্তমানে ভারতের প্রধান ‘স্ট্রাইক বোলার’, যিনি যেকোনো সময় উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিপরীতে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চার পাওয়ারপ্লেতে দুর্দান্ত বল করছেন। ভারতের ওপেনারদের বিপক্ষে আর্চারের বোলিংই হয়তো ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেবে।
বিগত সেমিফাইনালগুলোর ফলাফল হারানো দলের জন্য সবসময়ই বড়ো পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ১০ উইকেটের জয়ে ইংল্যান্ড ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলো। দুই বছর পর গায়ানায় ভারত তার মোক্ষম প্রতিশোধ নেয়। এবার দুই দলের সামনেই সুযোগ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের।
ওয়াংখেড়ের উইকেট ঐতিহাসিকভাবেই ব্যাটারদের স্বর্গ। ছোট বাউন্ডারি আর ফ্ল্যাট পিচে বড়ো স্কোরের আশা করা হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার ম্যাচে শিশির বড়ো প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টস জয়ী অধিনায়ক সম্ভবত প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তই নেবেন। ভারতের বোলিং কোচ মরনে মরকেল জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের গভীর ব্যাটিং লাইনআপের কথা মাথায় রেখে তারা সতর্ক পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের লড়াই সব সময়ই সমানে সমান। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারত ১৭ বার এবং ইংল্যান্ড ১২ বার জয়ী হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে লড়াইটা হবে স্নায়ুর। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও ২০২৪-এ তার প্রতিশোধ নিয়েছিল ভারত। আজ কে হাসবে শেষ হাসি?
সম্ভাব্য একাদশ:
ভারত: সুরিয়াকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, ইশান কিষান, সাঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিং, অক্ষর প্যাটেল, বরুণ চক্রবর্তী, জাসপ্রিত বুমরাহ, আরশদীপ সিং ও মোহাম্মদ সিরাজ।
ইংল্যান্ড: হ্যারি ব্রুক (অধিনায়ক), ফিল সল্ট, জস বাটলার, উইল জ্যাকস, টম ব্যান্টন, স্যাম কারান, লিয়াম ডসন, জফরা আর্চার, আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও জেমি ওভারটন।