ম্যাচ শেষে সঞ্জু স্যামসনের মুখে চওড়া হাসি। সেই হাসিতে মিশে আছে একরাশ স্বস্তি। সূর্যকুমার যাদবসহ সতীর্থরা একে একে ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরছেন। এরপর চললো ম্যাচ পরবর্তী প্রথাগত করমর্দন। শেষ মুহূর্তের এই উদযাপনই বলে দিচ্ছিলো, এই জয় আর এই ইনিংসটি স্যামসনের কাছে কতোটা অর্থবহ ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কঠিন চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়েছে সঞ্জু স্যামসনকে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই ফরম্যাটে শতক হাঁকানোর পর হঠাৎ ফর্ম হারিয়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন কি না, সেই প্রতীক্ষায় ছিলেন দীর্ঘ সময়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারত বিধ্বস্ত হওয়ার পর অবশেষে ভাগ্য খুলে তার। আর আজ ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালের মতো বড়ো মঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সেই সুযোগের কী দুর্দান্ত ব্যবহারই না করলেন তিনি!
রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ১০টি বল খেলার সুযোগই পাননি স্যামসন; স্ট্রাইক আগলে রেখেছিলেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু এই দীর্ঘ অপেক্ষা তার মনোযোগ সরাতে পারেনি। চাপের মুখে অবিশ্বাস্য রকমের শান্ত ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন তিনি। বিলিয়ন মানুষের চোখের সামনে বড় ম্যাচে বড়ো মঞ্চে আজ নিজের প্রতি সুবিচার করলেন এই ব্যাটার।
১৯৫ রান তাড়া করার মতো কঠিন সমীকরণে যখন দলের ওপর পাহাড়সম চাপ, ঠিক তখনই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক ইনিংস খেললেন স্যামসন। পুরো ইনিংসে তাকে একবারের জন্যও বিচলিত মনে হয়নি। ভারতের এই জয়ে স্যামসনের অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি সব বাধা টপকে তাঁর এই ফেরা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক বড়ো প্রাপ্তি। আর ইন্ডিয়া পাঁচ উইকেটে জিতে চলে গেলো সেমিতে।
