সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পরও মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৭৪ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (১৪ জুন) অসহনীয় গরম ও প্রতিকূল কন্ডিশনে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা উইকেটে থিতু হতে না পারায় দ্রুতই চাপে পড়ে স্বাগতিক শিবির।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে আসেন লিটন দাস। দারুণ ছন্দে থাকা লিটন ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করলেও মাঝপথে বাগড়া দেয় চোট। পেশির টানের (ক্র্যাম্প) কারণে তীব্র অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবে ইনিংসের শেষভাগে দলের প্রয়োজনে রানার নিয়ে আবারও ক্রিজে ফিরে আসেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। স্পষ্টতই নড়াচড়া করতে সমস্যা হলেও প্রচণ্ড মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়ে একটি কষ্টার্জিত ফিফটি তুলে নেন লিটন।
লিটন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর দলের হাল ধরেন তৌহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটারের প্রশংসনীয় ব্যাটিংয়ে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। উইকেটের চারপাশে সাবলীল শটে রান তুলতে থাকা হৃদয় দলের ইনিংসকে বড়ো সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৮৩ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ও দায়িত্বশীল ইনিংস।
অন্যদিকে, মোসাদ্দেক হোসেন শেষ দিকে ডেথ ওভারে বেশ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তার মারমুখী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শেষ ভাগে দ্রুত রান তোলে বাংলাদেশ, যা স্বাগতিকদের একটি লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দেয়। পাঁচ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ২৭৪।
ঢাকার তীব্র গরম আর আর্দ্রতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদেরও। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন ম্যাথিউ রেনশ। তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া পেস অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন গরমের মধ্যে হাঁসফাঁস করলেও লাইন-লেন্থ বজায় রেখে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।
এদিকে পুরো সিরিজ জুড়েই রান তুলতে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়া এখনও পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ২০০ রানই পার করতে পারেনি। ফলে সফরকারীরা ব্যাট হাতে অলৌকিক কিছু করে দেখাতে না পারলে, বাংলাদেশের সামনে এখন ৩-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ।
রান তাড়ার এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ কুপার কনলি এবং জশ ইংলিসকে নিয়ে নতুন এক ওপেনিং জুটি মাঠে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের চেনা কন্ডিশনে শক্তিশালী বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে তারা কেমন প্রতিরোধ গড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে, আজ বাংলাদেশের একাদশে দেখা যাবে না গতি তারকা নাহিদ রানাকে। তবে তার বদলি হিসেবে দলে আসা শরিফুল ইসলামের কারণে স্বাগতিকদের পেস আক্রমণ সমান বিপজ্জনকই থাকছে। এছাড়া প্রথম ইনিংসে চোট পাওয়া লিটন দাসের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়িয়েছেন নুরুল হাসান সোহান এবং ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।