জাম্পার রেকর্ড ও কনোলির ব্যাটে সিরিজে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হলো না। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে চার উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার ইতিহাস গড়া বোলিংয়ের পর কুপার কনোলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।

বুধবার (১৭ জুন) ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কুপার কনোলির ব্যাটে দারুণ সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের মাঝপথে কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলেছিল অজিরা। বিশেষ করে ম্যাট রেনশ স্পিনারদের বিপক্ষে বলের টাইমিং করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং কয়েকজন ব্যাটসম্যান নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। বাংলাদেশের স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও বোর্ডে রান কম থাকায় তা ডিফেন্ড করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকলাইন দুই উইকেট নিলেও রান দিয়েছেন কিছুটা বেশি। শেষ পর্যন্ত চার উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অজি স্পিনারদের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৩১ রান তুলতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। এই ম্যাচেই তিনি প্রথম অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে জাম্পা বলেন, ভালো লাগছে। এর মানে হলো আমি অনেকদিন ধরে খেলছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি গর্বের অর্জন। উইকেট কিছুটা নিষ্প্রভ ও নিচু ছিল, খুব বেশি স্পিন না থাকলেও বল সীমানার বাইরে পাঠানো কঠিন ছিলো। এছাড়া ওয়ানডের কঠিন সময় পেছনে ফেলে দলে আসা জোয়েল ডেভিস ও নিখিল চৌধুরীর মতো তরুণদের মানিয়ে নেওয়ার প্রশংসাও করেন তিনি।

অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উইকেটের গতি ও বাউন্সের অভাব দেখে আমরা কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। তবে আমাদের দলে বৈচিত্র্য থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। বিশেষ করে কুপার কনোলি যেভাবে কঠিন উইকেটে ব্যাট করেছে, তা দারুণ।

দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় নিজের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি, আজ আমরা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। মাঝের ওভারগুলোতে আমরা পরপর উইকেট হারিয়েছি এবং কোনো বড়ো জুটি গড়তে পারিনি। আশা করি, আমরা ভুল থেকে শিখবো এবং পরের ম্যাচে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবো।

পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল উল্লেখ করে হৃদয় আরও বলেন, উইকেটে কোনো সমস্যা ছিলো না। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের অন্তত ১৬০-১৭০ রান করা উচিত ছিলো। তবে আমাদের বোলিং ইউনিট বরাবরের মতোই প্রতি ম্যাচে লড়াই করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

ম্যাচ সংক্ষেপ

  • বাংলাদেশ: ১৩১/১০ (২০ ওভার)
  • অস্ট্রেলিয়া: ১৩২/৬ (৪ উইকেটে জয়ী)
  • ম্যাচ সেরা: অ্যাডাম জাম্পা (প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ১৫০ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক উইকেট)
  • সিরিজের অবস্থা: ৩ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।