২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের ইতিহাস, এবার বাংলাদেশ বধ

ঘরের মাঠে সফরকারী বাংলাদেশকে এক ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেটে টানা দুটি ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল জিম্বাবুয়ে। চেনা কন্ডিশন ছেড়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন থেকেই স্বাগতিকদের পেস আক্রমণের সামনে নূন্যতম কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিলড্রেন অব দ্য সয়েলদের মতো দাপট বজায় রেখে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টেস্টে আধিপত্য বিস্তার করল স্বাগতিকরা।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানকে এক ইনিংস ও ৭৩ রানে হারিয়েছিলো জিম্বাবুয়ে। আর এবার বাংলাদেশকে হারিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর টানা টেস্ট জয়ের মহাকাব্য লিখল তারা। এর আগে জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল ২০০১ সালের এপ্রিলে, যখন তারা দুই ম্যাচের সিরিজে এই বাংলাদেশকেই হোয়াইটওয়াশ করেছিলো। সামগ্রিকভাবে টেস্ট ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন জিম্বাবুয়ে টানা টেস্ট জয়ের স্বাদ পেলো।

ম্যাচের প্রথম দিনেই মাত্র ২৭ রানে আট উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসের খেই হারায় বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় মাত্র ১৪০ রানে। জবাবে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে পাহাড়সম ৪১০ রান তোলে। দলের পক্ষে ইনোসেন্ট কাইয়া দুর্দান্ত ১৪০ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া ব্রায়ান বেনেট, ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধেভেরে—প্রত্যেকই মূল্যবান অর্ধশতক করে জিম্বাবুয়েকে ২৭০ রানের বিশাল লিড এনে দেন।

ইনিংস হার এড়াতে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলো দারুণ এক ঘুরে দাঁড়ানো। কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যানই উইকেটে টিকে থাকার সেই ন্যূনতম দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ১৮৫ রানে। জিম্বাবুয়ের রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স এবং নিউম্যান নিয়ামহুরি একযোগে ধস নামান বাংলাদেশ শিবিরে। দুই ইনিংসের কোনোটিতেই জিম্বাবুয়ের এই চার পেসারের কেউ উইকেটশূন্য থাকেননি।

ম্যাচ শেষে ব্যাটিং বিপর্যয়কেই হারের মূল কারণ হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ব্যাটিংই আমাদের ম্যাচটি হারিয়েছে। তবে পুরো ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগই ভালো করতে পারেনি, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ভিন্ন কন্ডিশনে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এই পরিস্থিতিতে সবসময়ই একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে, আমাদের মানিয়ে নিতে হতো। ব্যাটিং অর্ডারে যে অভিজ্ঞতা ছিলো, তা দিয়ে আমরা পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারিনি।

দলের প্রধান পেসারদের অনুপস্থিতি নিয়ে শান্ত বলেন, এটা খেলারই অংশ। আমাদের ফাস্ট বোলাররা যেভাবে বোলিং করেছে তাতে আমি সত্যিই খুশি। তবে ব্যাটিংয়ে আমরা সঠিক ক্রিকেটীয় শট খেলিনি। আর একারণেই আমাদের ম্যাচটি হারতে হয়েছে।

সামনে থাকা ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে অবশ্য আশাবাদী শান্ত, গত ৪-৫টি সিরিজের দিকে তাকালে দেখবেন আমরা দুর্দান্ত সাদা বলের ক্রিকেট খেলেছি এবং জিতে আসছি। তাই ছেলেরা বেশ আত্মবিশ্বাসী।

অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়া জিম্বাবুয়ের তৃতীয় অধিনায়ক এখন রিচার্ড এনগারাভা। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক বলেন, ইতিহাস গড়াটা একটা দারুণ অনুভূতি। এটা আমাদের টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়, আশা করি আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারবো।

দলের বড়ো খেলোয়াড় পুলের সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, আগে আমরা ২৫ বা ৩০ জনের মতো খেলোয়াড় দেখতাম, আর এখন ৪২ জন খেলোয়াড় থাকায় কাজের চাপটা ভালোভাবে ভাগ করে নিতে পারছি। ব্রায়ান বেনেট আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, বাকিরাও রান করে অবদান রেখেছে। তরুণ নিউম্যান জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড়ো কিছু হতে চলেছে। ওডিআই সিরিজ নিয়েও প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান স্বাগতিক অধিনায়ক।