হারারের প্রাণবন্ত উইকেটে পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে সিরিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের দাপট দেখলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা ছয় উইকেটের ওপর ভর করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ জিতে ড্রেসিংরুমে স্বস্তিতে ফিরতে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের প্রয়োজন মাত্র ১৪২ রান।
সোমবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিলো না স্বাগতিকদের। ৩৬ রানের একটি মজবুত উদ্বোধনী জুটি গড়ে তারা আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের একটি দুর্দান্ত সরাসরি থ্রোতে বেন কারান রানআউট হলে খেলার মোড় নাটকীয়ভাবে ঘুরে যায়।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পরপর দুই ওভারে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
এরপরই হারারের উইকেটে শুরু হয় ‘নাহিদ রানা শো’। পিচের গতি ও বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালান এই তরুণ ফাস্ট বোলার। তার প্রচণ্ড গতির কোনো জবাবই ছিলো না স্বাগতিকদের কাছে। একে একে প্রতিপক্ষের ছয় ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে চলতি বছরে নিজের তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন রানা। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভার বল করে দুটি মেডেনসহ মাত্র ২১ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার।
একপর্যায়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়া জিম্বাবুয়েকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন রিচার্ড এনগারাভা এবং নিউম্যান নিয়ামহুরি। এই দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটার নবম উইকেটে ৬৩ রানের একটি সাহসী জুটি গড়ে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসে আবারও আঘাত হানেন রানা। ব্যক্তিগত ২৭ রানে থাকা এনগারাভাকে আউট করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তিনি। শেষ পর্যন্ত লড়াকু ৩৩ রান করা নিয়ামহুরিকে আউট করে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
হারারের উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা সহজ নয়। তবে ১৪২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ বেশ ফুরফুরে মেজাজেই মাঠে নামবে। এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ের বোলাররা শুরুতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরাতে পারে কি না, নাকি বাংলাদেশ অনায়াসেই এই লক্ষ্য টপকে জয় তুলে নেয়।