ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হেরে গত সপ্তাহে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল ক্যাঙ্গারুরা। তবে জানুয়ারির অ্যাশেজ জয়ের পর লাল বলের প্রথম সিরিজ খেলতে নেমে এমন ধাক্কা সহ্য করা প্যাট কামিন্সের দলের জন্য ছিল মানসম্মানের প্রশ্ন।
ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করার পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স নিজের দলের এমন বিধ্বংসী ‘শার্প’ পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
প্রথম দিনেই মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারী বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেন স্পিডস্টার মিচেল স্টার্ক। ৬৪ রানে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেলে ম্যাচের ভাগ্য প্রথম ঘণ্টাতেই নির্ধারিত হয়ে যায়।
পুরো ম্যাচে স্টার্ক নেন ১০ উইকেট। কামিন্স উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা জরুরি ছিল। ছেলেরা মাঠের শুরু থেকেই তীক্ষ্ণ ও মনোযোগী ছিল। আপনি হয়তো প্রতি ম্যাচে ২০ রানে ৬ উইকেট আশা করতে পারেন না, কিন্তু আমরা যে দারুণ শুরুটা পেয়েছি তারপর প্রতিপক্ষকে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দিইনি। প্রথম এক-দুই ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণই পুরো ম্যাচের সুর বেঁধে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে আগামী ১২ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিরুদ্ধে টানা ২১টি টেস্টের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের রান পাওয়াটা কামিন্সকে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দিয়েছে। ডারউইনে দুর্দান্ত শতকের পর ম্যাকেতে ৬৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে নিজের সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রিন।
প্যাট কামিন্স বলেন, পুরো সিরিজ জুড়েই গ্রিন ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই দুই টেস্টেই ও আমাদের ইনিংসের হাল শক্ত করে ধরেছিল। ও যে কত বড় মাপের খেলোয়াড় তা আমরা জানি, আশা করি সামনের কঠিন দিনগুলোতেও ও এই পারফরম্যান্স ধরে রাখবে।
তবে ম্যাকে টেস্ট দিয়ে ২০২৩ সালের পর দলে ফেরা ওপেনার ম্যাট রেনশ ব্যর্থ হলেও সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বিমানে তার থাকাটা প্রায় নিশ্চিত।
পাশাপাশি এই সিরিজে মার্নাস লাবুশেনের বাজে ফর্ম এবং ট্র্যাভিস হেডকে ওপেনিংয়ে খেলানো ঠিক হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দলজুড়ে গুঞ্জন থাকলেও, ডারউইনের বিপর্যয় কাটিয়ে এমন দুর্দান্ত জয়ে অসি ড্রেসিংরুমে যে স্বস্তির হওয়া বইছে, তা কামিন্সের আত্মবিশ্বাসী হাসিতেই স্পষ্ট!
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো