হৃদয় ও জাকেরের প্রত্যাবর্তন, তাসকিন-রানা বিশ্রামে

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত এই স্কোয়াডে ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী অনিক প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেলেও দলের দুই অন্যতম মূল পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবরের আগে নাহিদ রানাকে পাওয়া যাবে না বিধায় এই ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনা করা হয়নি। তাসকিনকে নিয়ে কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নীতি মেনে চলায় তিনি এই স্কোয়াডে অনুপস্থিত থাকলেও তরুণ হৃদয় ও জাকেরের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিং অর্ডারকে নতুন শক্তি জোগাবে।

চলতি মাসের শুরুতে পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে বিসিবি ‘এ’ দলের হয়ে ঐতিহাসিক অপরাজিত ৩৫০ রানের এক বিশাল ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয়। এই রেকর্ড সৃষ্টিকারী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই তিনি পুনরায় টেস্ট স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেন, যেখানে গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল।

এছাড়া অমিত হাসানকে দল থেকে বাদ দিয়ে ফেরানো হয়েছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলীকে। জিম্বাবুয়ে সফরে অভিষেকের পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি অমিত। পেস আক্রমণের শক্তি ধরে রাখতে দলের সঙ্গে ট্রাভেলিং রিজার্ভ বা অতিরিক্ত ক্রিকেটার হিসেবে নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন আমিরাত সফর করবেন।

দলের প্রধান পেসারদের ফিটনেস ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়া তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাকে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও ২০২৬-২৭ মেয়াদের বাকি টেস্ট মৌসুমের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

তাকে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ দেওয়া হবে নাকি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে পাঠানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আফগানিস্তান এখনো ম্যাচের সুনির্দিষ্ট ভেন্যু ঘোষণা না করলেও নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল আফগানদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ঘোষিত এই টেস্ট দলে ব্যাটার ও অলরাউন্ডারদের পাশাপাশি ভারসাম্যপূর্ণ পেস ও স্পিন আক্রমণ রাখা হয়েছে। দলে ওপেনিং ও মিডল অর্ডারে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী অনিক। স্পিন বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ও অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম। অন্যদিকে গতি ও পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী এবং শরিফুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো