অসিদের ইনিংস ব্যবধানে চূর্ণ করে সমতায় প্রোটিয়ারা

প্রথম দুই দিনে বৃষ্টির ঘ্যানঘ্যানে বাগড়ায় খেলা হয়েছিল মাত্র ৪৩ ওভার! প্রতিকূল আবহাওয়া আর ভেজা মাঠ দেখে মনে হচ্ছিল, পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট বুঝি ড্রয়ের খাতাতেই নাম লেখাতে যাচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেটের বাইশ গজের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল!

শেষ তিন দিনে বল আর ব্যাটের এক চোখধাঁধানো লড়াইয়ে গল্পটাই বদলে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দিনের টানটান উত্তেজনায় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস এবং ৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। আর তাতেই ১-১ সমতায় শেষ হলো দুই পরাশক্তির মধ্যকার এই ঐতিহাসিক সিরিজ।

পোর্ট এলিজাবেথে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২৫ রানের পাহাড় গড়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের আগুনের গোলার সামনে মাত্র ৯৯ রানেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অজিদের প্রথম ইনিংস। ফলে ফলোঅনের চরম লজ্জায় পড়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য হয় প্যাট কামিন্সের দল।

চতুর্থ দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লড়াই চালাচ্ছিল অজিরা। শেষ দিনে প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ উইকেট, আর কামিন্সদের জন্য লড়াইটা ছিল টিকে থাকার।

পঞ্চম দিনের সকালে ট্রাভিস হেড ও স্কট বোল্যান্ডের ৫৯ রানের লড়াই প্রোটিয়া শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি ছড়িয়েছিল। ওপেনার ট্রাভিস হেড ১৯০ বলে ১৫টি চার হাঁকিয়ে ১২১ রানের এক বুকচিতান সেঞ্চুরি হাঁকান। অন্যদিকে নাইটওয়াচম্যান স্কট বোল্যান্ডও ১৬৬ বল প্রতিরোধ গড়ে খেলেন ৪০ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। কিন্তু হেড ও বোল্যান্ডের এই লড়াকু জুটি ভাঙতেই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে পুরো অজি ব্যাটিং অর্ডার!

অভিজ্ঞ স্টিভেন স্মিথ ২০ বল খেলে করলেন মাত্র ৩ রান। এরপর আর কেউই উইকেটে দাঁড়াতে পারেননি। প্যাট কামিন্স (৪), মিচেল স্টার্ক (১১) ও জশ হ্যাজলউড (০) একে একে প্যারেড করে সাজঘরে ফেরেন। একপ্রান্তে অ্যালেক্স ক্যারি ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই করলেও সঙ্গীহীন হয়ে তাঁকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ মেনে নিতে হয়। অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৯৫ রানে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক পেস ট্রাম্পকার্ড ক্যাগিসো রাবাদা, যিনি একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে উইয়ান মুল্ডার শিকার করেন ৩টি উইকেট। এ ছাড়া সিমোন হার্মার ২টি ও মার্কো ইয়ানসেন ১টি উইকেট নিয়ে ক্যাঙ্গারুদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। বৃষ্টি বিঘ্নিত টেস্টেও কীভাবে রাজকীয় ফিনিশিং দিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে আনতে হয়, পোর্ট এলিজাবেথে তা বিশ্বকে আবার নতুন করে বুঝিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা!