পাকিস্তান ৯ উইকেটে ২৪৩ (শাদাব ১১৩*, ওভারটন ৩-৪৩) ইংল্যান্ডকে ২৪১ (ডাকেট ১০৫, কারান ৪২, আফ্রিদি ৪-৪৬)
এক উইকেটে পরাজিত করেছে।
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চকর ও অবিশ্বাস্য ম্যাচ উপহার দিল পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। গত বৃহস্পতিবার ৪২৯ রান ডিফেন্ড করতে ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণার পর আজ ইংল্যান্ড দল আরও বেশি নাটকীয়ভাবে পতন দেখল নিজেদের নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল পাকিস্তান, তখন পরাজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র মনে করে গদ্দাফি স্টেডিয়ামের গ্যালারি ফাঁকা হতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে শাদাব খানের বীরত্বপূর্ণ ও অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং শেষ উইকেটে রেকর্ড ৮৯ রানের অবিস্মরণীয় জুটিতে পাকিস্তানকে এক উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন। একই সঙ্গে এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করল স্বাগতিকরা।
মাত্র ২৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। শাহিন শাহ আফ্রিদির আগুনে বোলিংয়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাবর আজম কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। একে একে রিজওয়ান, সালমান আঘা ও আরাফাত মিনহাদের বিদায়ে ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় পাকিস্তান। তবে একদিকে শাহিন আফ্রিদি ও নাসিম শাহদের সামলে বেন ডাকেট দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত ওভারে ইংল্যান্ড সব কটি উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের পরাজয় যখন নিশ্চিত প্রায়, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন শাদাব খান। উইকেটে এসে একপ্রান্ত আগলে রেখে অবিশ্বাস্য খেলতে শুরু করেন তিনি। সঙ্গী হিসেবে টেলএন্ডার হারিস রউফকে নিয়ে গড়ে তোলেন এক অভাবনীয় প্রতিরোধ। প্রতিটি ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এবং ঠান্ডা মাথায় স্ট্রাইক রোটেট করে খেলাকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যান, যেখানে ইংল্যান্ডের বোলাররা দিশেহারা হয়ে পড়েন। শাদাবের অবিরাম লড়াইয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরাও আবার নতুন করে উত্তেজনা খুঁজে পান।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ছিল রূপকথার হার মানানোর মতো। শাদাব যখন ৯৭ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন গাস আটকিনসনের একটি ফুলটস বল সরাসরি তার প্যাডে আঘাত করলে আম্পায়ার আউটের ইশারা দেন। ক্ষোভে ব্যাট দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন শাদাব এবং রিভিউর আবেদন করেন। আল্ট্রাএজে ধরা পড়ে যে বলটি সামান্য ছুঁয়ে গেছে তার ব্যাটের ভেতরের কোণা! জীবন পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন শাদাব। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রান দরকার হলে আটকিনসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ আরও সহজ করে দেন তিনি। এরপর ডেব্যুট্যান্ট হেনরি ক্রোককম্বের শেষ বলটি সজোরে স্লাগ করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দেন হারিস রউফ। আর তাতেই পাকিস্তানের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও গ্যালারির হাজারো সমর্থক বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
মাত্র ১ উইকেটের এই নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর জয় পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, পরপর তিন ম্যাচ হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজের পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা ইংল্যান্ডের জন্য এখন ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা অলৌকিক কিছু ঘটার সমান।