ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের ঐতিহাসিক সাফল্য ও অগ্রযাত্রার পেছনের আলো ঝলমলে গল্পের পাশাপাশি বারবার সামনে চলে আসে তাদের মাঠের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নটি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা সুনির্দিষ্ট যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ নিয়ে বিসিবির ৭০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে চলমান আলোচনা ও কৌতূহলের মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
বুধবার হাইকোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান স্পষ্ট করেন যে, হাইকোর্টের নির্দেশিত ও বিসিবি কর্তৃক গৃহ-গৃহীত নিজস্ব নীতিমালার আলোকেই এই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ভিকটিম, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয় সুরক্ষা এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষার্থেই এই রিপোর্ট পাবলিক ডোমেইনে আনা হবে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জাহানারা আলমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জমা দেওয়া ওই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে জাহানারার আনীত অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ’ এবং ‘অসংবেদনশীল ও বাজে আচরণের’ সত্যতা মিলেছিল।
এই রিপোর্টের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুল ইসলামকে বিসিবির সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে মনজুরুল ইসলাম এই শাস্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করলে, বিসিবির পক্ষ থেকে মূল তদন্ত রিপোর্টটি মাননীয় আদালতের বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়। আদালত বিস্তারিত পর্যালোচনার পর মনজুরুল ইসলামের দুটি রিটই খারিজ করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহিন বলেন, রিপোর্টটি গণমাধ্যমে না আসায় অনেকে নানা প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, যৌন হয়রানির তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পূর্ণ গোপনীয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে আমরা এটি প্রদর্শন করেছি এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে আদালতকে অবহিত করা হবে, কিন্তু বিসিবি নিজ থেকে এটি প্রকাশ্যে আনবে না।
একই সঙ্গে বিসিবির এই আইনজীবী জানান, ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ’ (POSH - Prevention of Sexual Harassment) গাইডলাইন অনুমোদন করে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটার ও নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অভিযোগ জানানোর একটি ডেডিকেটেড কমপ্লেন সেল ও প্রম্পট যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিম বা অভিযোগকারী নিজে যদি আলাদা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ফৌজদারি মামলা করতে চান, তবে বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের লজিস্টিক ও আইনি সহযোগিতা দেওয়ার জোরালো আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।