জেলার মাঠ থেকে শুরু করে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম- দেশের নারী ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে লাগামহীন যৌন হয়রানি। সম্প্রতি অনুসন্ধানী নিউজরুম পোর্টাল ‘দ্য হুইসেল’-এর দীর্ঘ ১১ মাসের এক অনুসন্ধানে ৬৭ জন নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার এবং অপ্রকাশিত গোপন নথির ভিত্তিতে নারী ক্রিকেটের এই অন্ধকার ও ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
দ্য হুইসেলের জেষ্ঠ্য সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু ও আবু সাঈদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দলে সুযোগ পাওয়া, একাদশে থাকা বা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নাম লেখানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু কোচ ও নির্বাচকদের ইচ্ছের ওপর। আর এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা তরুণী ও উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের নানা কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে মেধাবী খেলোয়াড়দের দল থেকে বসিয়ে রাখা, মানসিক নির্যাতন এবং একপর্যায়ে বাধ্য করা হয় ক্রিকেট ছেড়ে দিতে।
খুলনা, ঢাকা ও অন্যান্য আঞ্চলিক পর্যায়ে খোদ বিসিবির বেতনভুক্ত ও প্রভাবশালী কোচদের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ‘ওপেন সিক্রেট’ থাকলেও ভুক্তভোগী নারী ক্রিকেটাররা সামাজিক ভয়, পরিবার ও ক্যারিয়ারের কথা ভেবে এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি।

হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যৌন হয়রানি রোধে কোনো কার্যকর বা স্বাধীন অভিযোগ কমিটি বা পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ছিল না। ফলে ভুক্তভোগীরা চাইলেও অভিযোগ জানানোর কোনো প্ল্যাটফর্ম পাননি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম নিউজিল্যান্ড সফরে তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে আদালতের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই প্রতিবেদন দীর্ঘ ৯ মাস ধরে প্রকাশ করেনি বিসিবি। গত অক্টোবরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিসিবি অবশেষে ওয়েবসাইটে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সেফগার্ডিং নীতিমালা’ যুক্ত করলেও দেশের অধিকাংশ নারী ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের নির্বাচকরাও এ বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছেন।
ক্রিকেট অঙ্গনে নারীদের এই অবর্ণনীয় বঞ্চনা ও হয়রানি রোধে বিসিবির পক্ষ থেকে আরও কঠোর, স্বাধীন ও স্বচ্ছ মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।
