সিলেট টেস্টে শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে চরম কোণঠাসা অবস্থায় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে তোলা ৩৫৬ রানের পর্বতসম পাহাড়ের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিনশেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা।
সফরকারীদের চেয়ে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে থাকা টাইগারদের এই রান আরও করুণ হতে পারত, যদি না দিনের শেষভাগে আলো স্বল্পতার কল্যাণে খেলা কিছুটা আগেভাগে বন্ধ হতো! তার ওপর দিনের শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ওপেনার সাদমান ইসলামের চোট দলকে ফেলে দিয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়, পুরো টেস্টেই তাঁর আর ব্যাটে নামা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
উইন্ডিজকে অলআউট করার পর বিকেলে ওপেনিংয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যাট হাতে নামানো হয় স্পিনার নাঈম হাসানকে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই দান মোটেও টেকেনি, মাত্র ৬ বল স্থায়ী হয়ে জয়ডেন সিলসের বলে এজ হয়ে সাজঘরে ফেরেন নাঈম।
অন্যদিকে, অপর প্রান্তের তানজীদ হাসান তামিম শুরুতে কিছুটা মারমুখী মেজাজে শুরু করলেও দ্রুতই ডানা ছেঁটে দেন উইন্ডিজ পেসাররা। টানা চার মেডেন খাওয়ার চরম চাপে পড়ে জাস্টিন গ্রিভসের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তানজীদ (১৭)। চা-বিরতির ঠিক পর পরই আরেক ধাক্কা, শামার জোসেফের দারুণ এক ইন-সুইঙ্গারে বোল্ড হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৬৫ বলে ১৮)।
মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ ঘোর বিপদে, তখন উইকেটে এসে লড়াই শুরু করেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তরুণ তাওহীদ হৃদয়। ৩৫ বলের বাউন্ডারি খরা কাটিয়ে মুশফিক প্রতিরোধ গড়েন। অন্যদিকে ১২ রানে থাকা অবস্থায় হৃদয়ের একটি কঠিন ক্যাচ নিজের বলে নিজেই মিস করেন স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। শেষ বিকেলে জয়ডেন সিলসের বাউন্সার আর স্লেজিংয়ের জবাব মুখে না দিয়ে বাইশ গজে হাসি-ঠাট্টায় উড়িয়ে দিয়ে এই জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রান যোগ করে দিনের খেলা শেষ করেন তাঁরা। মুশফিক ২৩ ও হৃদয় ১৬ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে সকালের সেশনটা অবশ্য এককভাবে নিজের করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। নতুন বলে ক্যারিবীয় সেঞ্চুরিয়ান আমীর জাঙ্গুকে (১৩৩) দুর্দান্ত এক ইন-সুইঙ্গারে বোল্ড করার পরের বলেই রোস্টন চেজকে কট বিহাইন্ড করেন হাসান। হ্যাটট্রিকের জোর সম্ভাবনা জাগলেও রিভিউতে বেঁচে যান জশুয়া বিশপ। শেষ পর্যন্ত বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে নিজের ৫ উইকেটের কোটা পূরণ করেন হাসান মাহমুদ। পরে আরও এক উইকেট নিয়ে ৯০ রানে ৬ উইকেটের এক ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান এই ডানহাতি পেসার।
যদিও উইন্ডিজরা ২৬৪ রানে ৪ উইকেট থেকে ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসেছিল, কিন্তু শেষ চার ব্যাটার মিলে একজোট হয়ে দলের ঝুলিতে মূল্যবান ৮১ রান যোগ করায় ৩৫৬ রানের বড় পুঁজি পেয়ে যায় মেহমুদ-জোসেফরা। দ্বিতীয় দিনের গল্পটা তাই সিলেটে বাংলাদেশের জন্য শুধুই হতাশা আর ব্যাটিং বিপর্যয়ের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকল।