মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টি, বজ্রপাত ও আলোকস্বল্পতার রোমাঞ্চকর নাটকের পর শেষ হাসি হাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজই। ১৭০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্র্যান্ডন কিংয়ের দুর্দান্ত ও অপরাজিত ৮১ রানের সুবাদে ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল দর্শনীয় ফর্মে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
ম্যাচের শেষ দিনে মিরপুরের বাইশ গজে রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম হাসান। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নিয়ে তিনি দলকে একটি লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ক্যারিবীয়দের সামনে পাহাড়সম হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। উইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেইসের ঘূর্ণি জাদু (৫/৩৬) এবং জোমেল ওয়ারিকানের (৪/৬৩) বোলিং তোপে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ম্যাচে দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন ওয়ারিকান।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের ওপর চড়াও হন উইন্ডিজের দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। ইনিংসের একেবারে শুরুতেই আম্পায়ার্স কলের বদৌলতে কয়েক দফা জীবন পান ক্যাম্পবেল। এরপর মাঠে যোগ হয় টাইগারদের চরম ফিল্ডিং ব্যর্থতা! দ্বিতীয় স্লিপে ব্র্যান্ডন কিংয়ের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন খোদ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, আর সেই আঘাতেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ব্যক্তিগত ৭১ রানে আবারও জীবন পান কিং—এবার তাঁর ক্যাচ ফেলেন এবাদত হোসেন।
ক্যাম্পবেল ৪৯ রানে আউট হয়ে ফিরলেও দলের জয় নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ইনফর্ম ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি। শেষদিকে কাভেম হজকে (অপরাজিত ৩১) সঙ্গে নিয়ে অনায়াসেই দলের জয় বন্দরে পৌঁছে দেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আর ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের চড়া মূল্য দিয়ে ঘরের মাঠে টাইগারদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ ভক্তদের হতাশ করলেও, মিরপুরের পিচে ক্যারিবীয়দের জয় ছিল সম্পূর্ণ নিখুঁত ও কর্তৃত্বপূর্ণ।
