মিডল স্টাম্পে ধীরগতির ফুল লেংথ ডেলিভারিটি আলতো করে ঠেলে দিয়েই এক রান নিলেন। মুহূর্তটি উদযাপিত হলো গ্যালারির গর্জন ও সতীর্থদের দাঁড়িয়ে জানানো অভিবাদনে। নিজের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তৌহিদ হৃদয়।
সিরিজের এই ম্যাচের আগে চার ইনিংসে হৃদয়ের সংগ্রহ ছিলো মোটে ৫৪ রান। রেড বল ক্রিকেটে কেরিয়ারের সূচনাটা যখন শঙ্কার মেঘে ঢাকা, তখনই দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারে মাঠে নামেন তিনি। দলের মাত্র ২২ রানে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে এসে উপহার দেন দৃঢ়তা, ধৈর্য ও অসামান্য সাহসিকতায় ভরা এক ম্যারাথন ইনিংস।
একদিকে যখন উইকেটের এক প্রান্ত ধরে নিয়মিত বিরতিতে সতীর্থ ব্যাটারদের বিদায় দেখতে হচ্ছিলো, অন্যদিকে জেইডেন সিলসের একটি প্রচণ্ড গতির লাফিয়ে ওঠা বল এসে সোজা আঘাত করে তার পাঁজরে। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা এবং শেষ ব্যাটার ছাড়া কাউকে পাশে না পাওয়ার কঠিন পরিস্থিতিতেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তরুণ এই ব্যাটার।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের দারুণভাবে আগলে রেখে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং তুলে ধরেন হৃদয়। ওভারের শেষভাগে চমৎকারভাবে স্ট্রাইক নিজের কাছে রেখেছেন এবং সুযোগ বুঝে হাঁকিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন সব আক্রমণাত্মক শট। এই ইনিংসে ভর করে সিলেটে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড নিজের নামে লেখান তিনি। একই সঙ্গে ভেঙে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও।
ইনিংসের শেষভাগে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। অষ্টম উইকেটে তারা দুইজন গড়ে তোলেন বাংলাদেশের হয়ে এই পজিশনে তৃতীয়বারের মতো শত রানের জুটি। সাহসিকতা ও লড়াকু মানসিকতার মিশেলে তৌহিদ হৃদয়ের খেলা এই ঐতিহাসিক ইনিংস নিশ্চিতভাবেই টেস্ট ক্রিকেটের পাতায় দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ আট উইকেট হারিয়ে ৩৪০ রান। তৌহিদ হৃদয় ২০৮ এবং তাসকিন আহমেদ দুই রানে ব্যাট করছেন।