আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ফিফটিতে আফগানদের সামনে ৪৭৯ রানের বিশাল ও প্রায় অসম্ভব এক রানের পাহাড় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
জবাবে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিক আফগানিস্তান। ম্যাচ জিততে হলে শেষ দিনে টাইগার পেস ও স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে আফগানদের করতে হবে আরও ৩৪৭ রান, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৭টি সুনির্দিষ্ট উইকেট!
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের বিপরীতে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে গুটিয়ে গেলে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যে গড়ে ওঠা দুর্দান্ত ১৫৯ রানের জুটির ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক শান্ত। ৭ম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানো লিটন ও মিরাজের এই আগ্রাসী ব্যাটিং আফগান বোলিং আক্রমণকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দেয়।

৪৭৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের গতি ও সুইংয়ের মুখে পড়ে আফগানিস্তান। মাত্র ২৮ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে ঘোর বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। পেসার এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার আবদুল মালিক। এরপর হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে ১৯ রানে বিদায় নেন শাহিদুল্লাহ।
তৃতীয় উইকেটে অবশ্য দলকে সামাল দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল। যদিও রহমত শাহকে ফেরানোর আগে দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ—হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফসকায় তানজিদ হাসান তামিম এবং একটি সহজ রান আউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়। দুই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ফিফটি তুলে নেন রহমত। তবে দিনের শেষভাগে আবারও এবাদতের আঘাত! টাইগার স্পিডস্টার এবাদত হোসেনের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ৫১ রানে আউট হন রহমত। ভেঙে যায় তাঁদের ৮২ রানের শক্ত প্রতিরোধ।

চতুর্থ দিন শেষে ১২৬ বল খেলে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন সেদিকউল্লাহ আতাল, আর তাঁর সঙ্গে ১৯ রানে ব্যাট করছেন অধিনায়ক হাসমাতউল্লাহ শাহিদি। বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ৩২ রানে ২ উইকেট এবং হাসান মাহমুদ ৩১ রানে ১টি উইকেট নিয়ে মূল উৎপাটন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন।
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনের সমীকরণ এখন কাচের মতো পরিষ্কার। ম্যাচ ড্র করতে হলেও পুরো ৯০ ওভার ব্যাটিং করে টিকে থাকতে হবে আফগানিস্তানকে, আর জিততে হলে তুলতে হবে আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে আবুধাবির মাটিতে টেস্ট জয়ের উল্লাসে মাততে নাজমুল হোসেন শান্তর দরকার আর মাত্র ৭টি উইকেট!
