আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি পিএসজিকে কোনোদিনও সম্মান করেনি। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ক্লাব সভাপতি নাসের আল খেলাইফি।
ফরাসি এক গণমাধ্যমে খেলাইফি বলেন, ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়ে বাজে মন্তব্য করে মেসি ঠিক কাজ করেনি। সেই সঙ্গে আরও জানিয়েছেন, পিএসজিই এমবাপের জন্য সেরা ক্লাব, আর ও এখানেই থাকবে।
দেখিবে কে যেন মরে মিশে আছে তোমার পথের ধুলিতে, আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু আমারে দেবো না ভুলিতে... এমন কথা লিওনেল মেসি বলতেই পারেন।
এই যে দিন-মাস-পেরিয়ে বছর ছুঁই ছুঁই, লিও ছেড়েছেন পিএসজি শিবির। এখনো কিন্তু তাকে একচুলও ভুলতে পারেনি তার প্রাক্তন ক্লাব পিএসজি।
তবে এই মনে পড়া কিন্তু সেই মনে পড়া নয় বরং খানিকটা বিভীষিকাময়। পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফির মনে মেসি যেনো এখনো বিধে আছেন অপ্রাপ্তির কাটা হয়ে।
তাই তো এই মুহূর্তের বার্নিং ইস্যু এমবাপেকে নিয়ে কথা বলার ফাঁকে সেই কাঁটার আঘাতে বিদ্ধ করতে চাইলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে। এক পডকাস্টে মেসি নাকি কখনোই পিএসজিকে সম্মান করেনি।
খেলাইফি বলেন, আসলে পুরো বিষয়টাই সম্মানের। মেসির প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান আছে। তবে ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর 'ও' পিএসজির প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি।
মেসিকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, ওকে খারাপ বলবো না। ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর কাউকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা আমাদের সংস্কৃতি নয়। সেটাই মেসিই হোক কিংবা অন্য কেউ।
পিএসজি ছাড়ার পর এক ইন্টারভিউতে লিওনেল মেসি বলেছিলেন বার্সা থেকে এই ক্লাবে যোগ দেয়া একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো তার। একই সাথে পিএসজিতে বিশ্বকাপ জয়ীকে ঠিকঠাক রেসপেক্ট দেয়া হয়নি।
আর সেই ইন্টারভিউর কথাগুলোই কিছুতেই হজম হচ্ছিলো না পিএসজি’র আমিরশাহী কর্তা খেলাইফির। তাই তো সুযোগ পেতেই উগড়ে দিলেন সবটা।
দুই সিজনে পিএসজির হয়ে মেসি খেলেছেন ৭৫ ম্যাচ, করেছেন ৩২ গোল, সাথে ৩৫টা অ্যাসিস্ট। আর বাড়তি পাওয়া হিসেবে যুক্ত হয়েছিলো ক্যারিয়ারে প্রথমবার দু ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, স্টেডিয়ামে মেসির নামে বিষোদগার, মেসিকে উদ্দেশ্য করে পিএসজি সমর্থকদের ফ্রান্স ছাড়ো স্লোগান। এতটাই সম্মান সঙ্গী করেই মেসি দিলো আমেরিকা পাড়ি।
মেসিকে নিয়ে চর্চার ফাঁকে এমবাপের দলবদল নিয়ে একটা সংকেত অবশ্য দিয়ে গেলেন খেলাইফি। বললেন পিএসজি এবং এমবাপের মধ্যে চুক্তি আছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে আশে পাশে যেসব খবর হাওয়ায় ভাসছে তা কিছুদিনের মধ্যেই হাওয়াতেই মিলিয়ে যাবে।