মেসির অষ্টম ব্যালন ডি’অর থাকবে বার্সেলোনার জাদুঘরে

নিজের অষ্টম ব্যালন ডি’অর-টা বার্সেলোনাকে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি। ক্যারিওয়ারের সব অর্জনের মতো এটাও ঠাঁই পাচ্ছে বার্সেলোনা মিউজিয়ামে। গেল বছরই আর্লিং হালান্ডকে পেছনে ফেলে রেকর্ড অষ্টম ব্যালন ডি অর জেতেন লিও।

ফুটবল ক্যারিয়ারের ২১টা বছর কাতালুনিয়ায় কাটানো মেসির কাছে বার্সেলোনা পর নয়, নিজের ঠিকানা। মেসির অর্জন নিয়ে গড়ে ওঠা বার্সা জাদুঘর ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই এক তীর্থক্ষেত্রে।

একটা দুইটা তিনটা-গুণে গুণে এভাবে সাতটা। কিছুদিন আগ পর্যন্ত মেসির এই সাতটা ব্যালন ডি অরই শোভা পাচ্ছিলো বার্সেলোনার জাদুঘরে। বাকি ছিলো শুধু একটা। অবশেষে ২০২৩ এ জেতা সেই অষ্টম ব্যালন ডি’অরও বার্সা মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিও। বাড়ি নয়, বিশ্বসেরার স্মারকগুলো থাকবে তার থেকে বহুদূরে, কাচ ঘেরা কোন এক রুমে।

প্রশ্ন জাগতেই পারে, তবে কি ক্যারিয়ারে এতো এতো ট্রফির ভিড়ে ট্রফির মূল্যটাই ভুলে বসেছেন আর্জেন্টাইন তারকা?

ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। একবার ভাবুন মানুষ তার মূল্যবান জিনিস কোথায় রাখে? নিশ্চয়ই নিজ বাড়িতে। তাহলে কে না জানে, মেসির আসল ঠিকানা যে বার্সেলোনা।

বয়সটা তখন মাত্র ১৩। একটা টিস্যুতে হাজারো স্বপ্নকে কয়েক শব্দে বন্দি করে বার্সার সাথে চুক্তি করেছিলেন মেসি। এরপর সময়ের সাথে সাথে কাতালুনিয়ায় মেসি ইতিহাস রচনা করেছেন। চারটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটা ইউয়েফা সুপার কাপ, তিনটা ক্লাব বিশ্বকাপ, ১০ টা লা লিগা শিরোপা, সাতটা কোপা দেল রে এমন কত শিরোপাই না বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছেন এই ক্ষুদে জাদুকর।

পুরস্কারের হিসেব করলে ফুটবল ইতিহাসে মেসি মোস্ট ডেকোরেটেড প্লেয়ার। ফিফা গোল্ডেন বল, দ্যা বেস্ট, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, পিচিচ ট্রফিসহ অসংখ্য অর্জন মেসির নামের পাশে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। আর এই সবগুলোই মেসি রেখেছেন বার্সেলোনার জাদুঘরে।

মেসির নামেই যেনো জাদু, হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো সুর তুলতে হয় না, শুধু ওর নাম শুনলেই জড়ো হয়ে যায় লাখ লাখ মানুষ। মেসিকে এক ম্যাচে দেখতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ দেশের মানুষ টিকেট কাটেন, ঠিক তেমন ওকে না পেয়ে হংকং, চীনে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। এটাই মেসি, মানুষ নন, ফুটবল ঈশ্বর।