মেসি দর্শনে এসে হতাশ ভক্তরা, সল্টলেক স্টেডিয়ামে তাণ্ডব

ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসির বহুল প্রচারিত 'জি.ও.এ.টি ট্যুর'-এর কলকাতা পর্ব শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্টলেক স্টেডিয়াম) হাজার হাজার ভক্তের জন্য একটি চরম বিশৃঙ্খল অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। কারণ, তারা আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির কাছ থেকে এক ঝলকও দেখতে পাননি।

টিকিটের মূল্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার টাকা হওয়ার পরেও বহু ভক্ত অভিযোগ, তারা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি। মেসির কাছাকাছি নিরাপত্তা কর্মী এবং অন্যান্য অতিথিদের ভিড়ের কারণে গ্যালারি থেকে ভক্তরা তাকে সঠিকভাবে দেখতে ব্যর্থ হন। এতে গ্যালারিজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। 

এই ঘটনার ফলে সৃষ্ট ক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, চেয়ার ও বোতল ছোড়া শুরু হয়, যার জেরে আয়োজকরা মেসিকে দ্রুত সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

মেসি শনিরার সকাল সোয়া ১১টায় স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং প্রায় ২০ মিনিট ছিলেন। বিশৃঙ্খলার কারণে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী তারকার স্টেডিয়ামে পুরো চক্কর দেয়ার কথা থাকলেও, তিনি তা করতে পারেননি।

মেসি টানেল থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তের পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান, প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিশৃঙ্খলার কারণে অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ায় তাতে অংশ নিতে পারেননি।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়, জিওএটি ট্যুরের আয়োজক ও প্রমোটার শতদ্রু দত্তকে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে নিয়ে মেসিকে সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে হয়। বহু ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়েন এবং অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা শামিয়ানাগুলি ভাঙচুর করেন।

এনডিটিভি-কে এক সেমি ভক্ত এই ইভেন্টটিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন, অন্য একজন অব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশৃঙ্খল ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'এক্স' হ্যান্ডেলে লেখেন, সল্টলেক স্টেডিয়ামে আজ যে অব্যবস্থা দেখা গেল, তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। আমি হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী ও ভক্তদের সঙ্গে স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলাম, যারা তাদের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখার জন্য জড়ো হয়েছিলেন।

তিনি আরও লেখেন, আমি এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য লিওনেল মেসি এবং সব ক্রীড়াপ্রেমী ও তার ভক্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

মুখ্যমন্ত্রী একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের সভাপতিত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছি, যার সদস্য হিসেবে থাকবেন মুখ্যসচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর। এই কমিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে, দায় নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সুপারিশ করবে।