সাদিও মানের ‘বিদায়’ মানতে নারাজ সেনেগাল কোচ

মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনালের ঠিক আগ মুহূর্তে সেনেগালের ফুটবল অঙ্গনে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়-সাদিও মানে কি সত্যিই আর আফ্রিকা কাপে খেলবেন না? সেমিতে মিশরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই তার শেষ আফ্রিকান নেশন্স হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানাবেন এই লিভারপুল আইকন।

মানের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মানের সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন। থিয়াও বলেন, তার সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু তার একার নয়। তার পেছনে পুরো জাতি দাঁড়িয়ে আছে এবং সবাই তাকে জাতীয় দলে দেখতে চায়। আমার মনে হয় আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি ওই কথা বলেছিলেন। আমরা তাকে যতটা সম্ভব বেশি সময় দলের সাথে রাখতে চাই। 

ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতেও মানের প্রশংসা করে বলেন, সাদিও একজন অসাধারণ মানুষ। তার ছয়টি আফ্রিকান নেশন্স কাপের আসরে খেলা প্রমাণ করে যে তিনি কতটা ধারাবাহিক।

এদিকে, মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই মরক্কোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেনেগাল। উত্তর মরক্কোর তাঞ্জিয়ার থেকে রাজধানী রাবাতে পৌঁছানোর পর সেনেগাল দল অভিযোগ করেছে যে, তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। 

কোচের মতে, শনিবার যা ঘটেছে তা স্বাভাবিক ছিল না। সেখানে যে পরিমাণ ভিড় ছিল, তাতে খেলোয়াড়রা বিপদে পড়তে পারতেন। এছাড়া হোটেল আবাসন, সমর্থকদের টিকিটের স্বল্পতা এবং মরক্কোর নিজস্ব প্রশিক্ষণ মাঠে অনুশীলনের প্রস্তাব দেয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। থিয়াওয়ের মতে, দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে এমনটা ঘটা উচিত নয়।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকার সেরা দুই দলের এই লড়াই নিয়ে রোমাঞ্চিত ফুটবল বিশ্ব। তবে ঘরের মাঠে ৫০ বছর পর শিরোপা জয়ের চাপে রয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, আমরা এখানে আসার স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং এখন আমরা ফাইনালে। তবে শেষ ধাপটিই হবে সবচেয়ে কঠিন। 

তিনি আরও যোগ করেন, সেনেগাল গত চার আসরের তিনটিতেই ফাইনালে উঠেছে, তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে ঘরের মাঠের সমর্থকদের সমর্থনে আমরা কিছুটা এগিয়ে থাকব। ৫০ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ মরক্কো আর, টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে লড়বে ‘তেরাঙ্গা লায়ন্স’ সেনেগাল। এই 'লায়ন্স ডার্বি'তে কে হাসবে শেষ হাসি- সাদিও মানের অভিজ্ঞ সেনেগাল নাকি ঘরের মাঠের অদম্য মরক্কো, উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরেই।