প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও এখনো বিশ্বকাপে আছে ইরান: এএফসি

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরান তাদের জাতীয় ফুটবল দল প্রত্যাহার করে নেবে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা এখনও পায়নি। এশিয়া ফুটবলের নিয়ান্তা সংস্থাটি বলছে, প্রত্যাহারের গুঞ্জন সত্ত্বেও এখন বিশ্বকাপে আছে ইরান। খবর আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই আসরে ইরান এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধি হিসাবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সূচি অনুযায়ী, ইরানের দুটি গ্রুপ ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসরাইলের সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানো এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হবার পর ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া অসম্ভব।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তবে তিনি এও মনে করেন, খেলোয়াড়দের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকাতে সফর করা ঠিক হবে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার কুয়ালালামপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর জন বলেন, এটি একটি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ মুহূর্ত। সবাই অনেক কিছুই বলছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, দিন শেষে একটি দেশ খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের। আজ পর্যন্ত ইরান ফুটবল ফেডারেশন আমাদের জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। তারা আমাদের সদস্য। আমরা চাই তারা খেলুক। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছে... তাই আমরা আশা করি তারা তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে।

ইরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবলের এই বৈশ্বিক আসর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে আধুনিক যুগে এটিই হবে প্রথম এমন ঘটনা। সেক্ষেত্রে ফিফাকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প দেশ খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই ফুটবল মহাযজ্ঞ চলার কথা রয়েছে।

২০২৬ আসর শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি না থাকায় ফিফা সময়মতো ইরানের বিকল্প খুঁজে পাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি বিকল্প হতে পারে বাছাইপর্বে বাদ পড়া এশিয়ার সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী দলকে সুযোগ দেয়া। অন্যথায়, ইরানের বদলে নতুন কোনো দল না নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে চারটির বদলে তিনটি দল নিয়ে বিশেষ নিয়মে খেলা পরিচালনা করা হতে পারে।