মাঠের লড়াইয়ে ঘাম ঝরিয়ে জেতা ট্রফি যখন টেবিলের সিদ্ধান্তে ছিনতাই হয়ে যায়, তখন গর্জে ওঠাই স্বাভাবিক। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার প্রতিবাদে এবার ‘রণহুঙ্কার’ দিল সেনেগাল। কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (ক্যাফ) এই সিদ্ধান্তটিকে ‘অন্যায্য, নজিরবিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে ধিক্কার জানিয়েছে তারা।
গত ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর রাবাতে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে যারা উৎসবে মেতেছিল, সেই সেনেগাল এখন রিক্তহস্ত। ক্যাফের আপিল বোর্ড সেনেগালের ওই ১৪ মিনিটের মাঠ ছাড়ার ঘটনাকে ‘ওয়াকওভার’ গণ্য করে মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করেছে। বুধবার এক কড়া বিবৃতিতে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলের গায়ে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রুদ্ধশ্বাস সে ফাইনালের ইনজুরি টাইমে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দেয়া হলে প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ে সেনেগালের ফুটবলাররা। সেনেগালের কোচ পাপা বুনা থিয়াও’র ইন্ধনে এই ‘ওয়াক-অফ’ ঘটেছিল বলে অভিযোগ, যার জন্য তাঁকে লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে, সেই বিশৃঙ্খলার মাঝেও নায়ক হয়ে উঠেছিলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সাদিও মানে। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে সতীর্থদের বুঝিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত মরক্কো পেনাল্টি মিস করে এবং অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের গোলে জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল।
সেনেগালের প্রধান যুক্তি হলো, কঙ্গোলিজ রেফারি জঁ-জ্যাক এনডালা সেই সময় ম্যাচটি বাতিল করেননি। বরং সেনেগাল মাঠে ফেরার পর তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। ফুটবল আইন অনুযায়ী, রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মাস পর ক্যাফ কীভাবে মাঠের ফলাফল বদলে দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেনেগালের সাবেক কোচ ক্লদ লে রয়। ফরাসি টেলিভিশনে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ক্যাফ রেফারির সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসছে।
নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে সেনেগাল এখন সুইজারল্যান্ডের স্পোর্টস আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৯ সালেও ঠিক একই ধরণের এক কাণ্ড ঘটিয়েছিল মরক্কোর ক্লাব উইদাদ কাসাব্লাঙ্কা। সেবার তারা ভিএআর বিতর্কে মাঠ ছাড়লে ক্যাফ পুনরায় ম্যাচ খেলার নির্দেশ দিয়েছিল।
কিন্তু পরে সিএএস সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রতিপক্ষকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল। সেনেগাল আশা করছে, এবারও ইতিহাস তাদের পক্ষেই কথা বলবে।
মরক্কোর ঘরে এখন ট্রফি থাকলেও সেনেগালের দাবি, সেই ট্রফি তাদের পরিশ্রমের ফসল, যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। লুজান আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত আফ্রিকান ফুটবলের এই ‘সিংহাসন’ নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স