২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আর মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স। কিন্তু সেই শেষ চারের টিকিট কাটার আগে ফরাসিদের পার হতে হবে মরক্কো নামের এক কঠিন প্রাচীর, যারা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের হারের প্রতিশোধ নিতে এবার রক্তচক্ষু নিয়ে ফুঁসছে।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে ফরাসি স্কোয়াডকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ও গভীর মনে করা হলেও, দেশমের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দলের তিন-তিনজন মূল তারকা খেলোয়াড় মাথায় হলুদ কার্ডের ‘টাইম বোম’ নিয়ে রাতে মাঠে নামছেন। মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচে আর একটিমাত্র হলুদ কার্ড দেখলেই সম্ভাব্য সেমিফাইনাল থেকে চিরতরে ছিটকে যাবেন এই তিন ফরাসি ব্লুজ!

তালিকায় প্রথম নামটি হলো মাইকেল কোনের। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা অরেলিয়েন চুয়ামেনি উরুর ইনজুরির কারণে গত ম্যাচে ছিটকে যাওয়ায় মাঝমাঠের হাল ধরেছিলেন এই তরুণ। রক্ষণ থেকে আক্রমণ, পুরো মাঝমাঠের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি দূরপাল্লার শট নিয়ে পরাগুয়ের ডিফেন্সকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন কোনে। কিন্তু ম্যাচের ৮১ মিনিটে একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখে বসেন তিনি। রাতে যদি চুয়ামেনি পুরোপুরি ফিট হয়ে একাদশে ফেরেনও, তাও বদলি হিসেবে কোনের মতো একজন ম্যাচ উইনারকে সেমিফাইনালে না পাওয়াটা ফ্রান্সের জন্য হবে মস্ত বড় ধাক্কা।
পিএসজির এই উইঙ্গার গত ম্যাচে পরাগুয়ের ডিফেন্ডারদের একা হাতে নাচিয়ে ছেড়েছিলেন। গতি, ড্রিবলিং আর ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেওয়া এই তারকার আগ্রাসী মনোভাবই আজ তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু।
গত ম্যাচের মাত্র ১৯ মিনিটের মাথায় মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে রেফারি বুক পকেটে হাত দিতে বাধ্য করেছিলেন বারকোলাকে। ফ্রান্সের ডেরায় ডেজিরে দুয়ে কিংবা রায়ান চেরকির মতো বিশ্বমানের ব্যাকআপ উইঙ্গার থাকলেও, বারকোলা যেভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ লাইন এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন, সেই ধার বাকিদের নেই। তাই মরক্কোর ডিফেন্সের সাথে শারীরিক শক্তির লড়াইয়ে আজ বারকোলাকে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে।

ফরাসি কোচিং স্টাফদের সবচেয়ে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন যিনি, তিনি হলেন বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড মাইকেল অলিস। এই মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ফরাসি আক্রমণের অন্যতম মূল কারিগর তিনি। ডিফেন্ডারদের বোকা বানানো, নিখুঁত পাসিং আর চতুর ড্রিবলিং দিয়ে অলিস নিজেকে প্রায় ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ এক ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কিন্তু পরাগুয়ে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৭ মিনিটে) মাথা গরম করে হলুদ কার্ড দেখে বসেন তিনি। ফ্রান্সের স্কোয়াড যতই গভীর হোক না কেন, অলিস এই মুহূর্তে যে আগুনে ফর্মে আছেন, তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া দেশমের জন্য অসম্ভব। অলিস যদি আজ কার্ড দেখেন, তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্স তাদের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ক্রিয়েটিভ ব্রেনকে হারাবে।
বোস্টনের মাঠে সেমিফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ টিকিট যখন বাজি, তখন কোচ দিদিয়ে দেশমকে এক অদ্ভুত দোটানায় পড়তে হচ্ছে। একদিকে মরক্কোর মতো ক্ষিপ্র কাউন্টার-অ্যাটাকিং দলকে থামাতে ফ্রান্সকে তাদের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ফুটবল খেলতেই হবে, আবার অন্যদিকে এই তিন মহাতারকাকে কার্ডের হাত থেকে বাঁচিয়ে আগলে রাখতে হবে। বস্টনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে দেশমের ট্যাকটিক্স জেতে নাকি মরক্কোর প্রতিশোধের আগুন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
