ইরানের বিপক্ষে যে কোনো দেশে খেলতে রাজি কিউইরা

ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া পড়েছে খেলার মাঠেও। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইরানের মুখোমুখি হওয়ার কথা নিউজিল্যান্ডের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলতে প্রস্তুত।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার কথা।

কিন্তু ইরান ফুটবল ফেডারেশন সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ম্যাচ খেলবে না এবং প্রয়োজনে টুর্নামেন্ট বর্জন করার হুমকিও দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মুখে নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান থমাস ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং তারা যেখানেই খেলুক না কেন, নিউজিল্যান্ডের তাতে কোনো আপত্তি নেই। থমাস বলেন, তারা কোয়ালিফাই করে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়েও তাদের সাথে খেলতে হয়, তবে আমরা সেখানেই খেলব। এটি আমার কাছে বড় কোনো সমস্যা নয়।

নিউজিল্যান্ড দল বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে অবস্থান করছে, যা মেক্সিকো সীমান্ত থেকে খুব কাছে। গত সপ্তাহে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান চাইলে তাদের মাটিতে ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল ফিফার।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ৩৬ বছর বয়সী উইঙ্গার কোস্তা বারবারোসেস লস অ্যাঞ্জেলেসে এই ম্যাচের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রেখে বলেন, আমি বুঝি মানুষের মনে ভয় থাকতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আমি আমার পরিবারকে সাথে রাখতে চাই। আমি বিশ্বাস করি তারা সেখানে নিরাপদ থাকবে।

ফিফা এখন পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে মন্তব্য না করলেও তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও ইরানের পরবর্তী ম্যাচগুলো বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে যথাক্রমে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে হওয়ার কথা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা মনে করছেন, ভেন্যু পরিবর্তন হলেও তাদের প্রস্তুতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা