৫২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে আফ্রিকান এই দলটিকে। অতিরিক্ত সময়ের সেই মহানাটকীয় গোলে জামাইকানদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে ইতিহাস গড়ল তারা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই সমানে সমান লড়াই করলেও জালের দেখা পায়নি কেউ। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১০০ মিনিটে দৃশ্যপটে হাজির হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার অক্সেল তুয়ানজেবে। একটি কর্নার কিক থেকে আসা বল জটলার ভেতর থেকে জালে ঠেলে দেন এই বার্নলি তারকা।
তবে গোলটি হ্যান্ডবল কি না, তা যাচাই করতে ভিএআর রিভিউতে এক মিনিটেরও বেশি সময় কাটলে গ্যালারিতে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশিতে গোল নিশ্চিত হতেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে কঙ্গো শিবির।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত তুয়ানজেবে বলেন, দেশের হয়ে জয়সূচক গোল করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন। আমরা কাজটা কঠিন করে ফেলেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। আমি আমার দেশের জন্য গর্বিত। পুরো ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও জ্যামাইকার রক্ষনব্যুহ ভাঙতে কঙ্গোকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলই শেষ হাসি হাসাল।
এই জয়ের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে মোট ১০টি দল অংশগ্রহণের নজির গড়ল। ডিআর কঙ্গো এর আগে নাইজেরিয়াকে প্লে-অফে হারিয়ে এই আন্তঃমহাদেশীয় পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছিল। অন্যদিকে জ্যামাইকা নিউ ক্যালেডোনিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শেষ রক্ষা করতে পারল না। ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে ফেরার যে স্বপ্ন রেগি বয়েজরা দেখেছিল, তা অপূর্ণই থেকে গেল।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে ডিআর কঙ্গোকে বেশ কঠিন গ্রুপে পড়তে হচ্ছে। তারা খেলবে গ্রুপ 'ডি'-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, দক্ষিণ আমেরিকান শক্তি কলম্বিয়া এবং উদীয়মান উজবেকিস্তান। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে তাদের বিশ্বজয়ের অভিযান।
১৯৭৪ সালে 'জাইরে' নামে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল কঙ্গো। অর্ধশতাব্দী পর নতুন নামে, নতুন উদ্যমে আবারও বিশ্বফুটবলের অভিজাত আসরে ফিরল তারা। জামাইকার বিপক্ষে এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি একটি জাতির পুনর্জন্মের গল্প।