নেইমারকে দুই মাস সময় বেঁধে দিলেন আনচেলত্তি!

গত ১২ মাস ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করা নেইমারের জন্য বিশ্বকাপ খেলার পথটা মোটেও মসৃণ হচ্ছে না। সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে নেইমারের হাতে এখন সময় আছে মাত্র দুই মাস। এই সময়ের মধ্যেই ৩৪ বছর বয়সী এই পোস্টার বয়কে প্রমাণ করতে হবে, তিনি বিশ্বমঞ্চে খেলার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি ফিট।

মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ বলেন, "আমি বারবার বলেছি, যারা শারীরিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত, শুধু তাদেরই আমি দলে ডাকব। নেইমারের সামনে এখন দুই মাস সময় আছে এটা প্রমাণ করার জন্য যে বিশ্বকাপে খেলার সক্ষমতা তাঁর আছে।


তবে, আনচেলত্তি আশাবাদী, নেইমার শতভাগ ছন্দে ফিরতে পারবেন। গত ডিসেম্বরে হাঁটুর চোটের পর তাঁর সুস্থতা এবং গোল করার ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোচ।

ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) নেইমার এখন পর্যন্ত তিনটি বিশ্বকাপে সেলেসাওদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচে ৮ গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর নামের পাশে। ব্রাজিলীয়দের মধ্যে শুধু রোনালদো নাজারিও, পেলে এবং জার্জিনহো বিশ্বকাপে তাঁর চেয়ে বেশি গোলের পেছনে অবদান রেখেছেন।


বর্তমানে নিজের পুরনো ক্লাব সান্তোসে খেলা নেইমার ইনজুরির কারণে এই মৌসুমে লিগে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে সীমিত সময়েও তিনি নিজের ধার হারিয়ে ফেলেননি; ৫ ম্যাচে ৩টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তাঁর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক বিরতির সময় একটি ছোট অস্ত্রোপচার করালেও গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন তিনি।


আনচেলত্তি নেইমারকে দল থেকে পুরোপুরি বাদ দেননি, তবে তাঁর স্পষ্ট শর্ত, দলে থাকতে হলে সেরা ফিটনেসের বিকল্প নেই। নেইমার এখন সঠিক পথেই এগোচ্ছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো উচ্চ তীব্রতার আসরে নেইমার কতটুকু ধকল সইতে পারবেন, তা প্রমাণের জন্য আগামী দুই মাসই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।

ব্রাজিলীয় ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রাণপ্রিয় তারকা কি পারবেন আবারও হলুদ জার্সিতে বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে, নাকি ইনজুরি আর বয়স কেড়ে নেবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন।