বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নামকে অমর করে রাখার জন্য কিলিয়ান এমবাপে এমন এক মঞ্চ বেছে নিলেন, যা তাঁর মহিমার সাথে কিছুটা বেমানানই বটে! রোববারের মেগা ফাইনালের আগে মিয়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। গোল উৎসবের ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড ৬-৪ গোলে হারায় ফ্রান্সকে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোখধাঁধানো এক জোড়া গোলে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেছেন এই ফরাসি গতিদানব। বিশ্বকাপে এখন তাঁর মোট গোল সংখ্যা ২২! তবে, মেসি যদি ফাইনালে ম্যাজিক দেখান, তাহলে হুমকিতে পড়বে এই রেকর্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য ছিল ইংল্যান্ডের দখলে। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটের মধ্যেই বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে ফ্রান্সকে রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। বিরতির পর মনে হচ্ছিল ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি শুধুই এক লজ্জাজনক পরাজয়ের গল্প হতে যাচ্ছে। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল! ৪৮তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে বুলেট গতির শটে গোল করে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের বিগুল বাজান এমবাপে, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির ওপরে তুলে দেয়।
এখানেই ক্ষান্ত হননি ফরাসি পোস্টার বয়। তাঁর জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন। এরপর ৬৬তম মিনিটে আবারও ইংলিশ ডিফেন্সকে চূর্ণ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন এমবাপে। এই জোড়া গোলের ওপর ভর করে শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপেই নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেলেন তিনি, যা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত কামব্যাকের গল্প হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিল।

মেসির সামনে এখনো শেষ সুযোগ!
এই ম্যাচের আগে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ গোল ছিল ২০টি, যা মেসির ২১ গোলের রেকর্ডের চেয়ে একটি কম ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের পর ২২ গোল নিয়ে এমবাপ্পে এখন বিশ্বমঞ্চের একক রাজা। এই তালিকায় ১৬ গোল নিয়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা রয়েছেন অনেক পেছনে তৃতীয় স্থানে।
তবে এমবাপ্পে সিংহাসন দখল করলেও লিওনেল মেসির কিন্তু গল্পটা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। রোববার রাতে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ, ফরাসি যুবরাজের এই হুংকারের জবাব দেওয়ার জন্য আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে আরও একটি লাইফলাইন বা সুযোগ বাকি রয়েছে। ফাইনালে মেসি যদি একটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি ২২ গোল নিয়ে এমবাপ্পের পাশে বসার সুযোগ পাবেন; আর যদি দুটি গোল করতে পারেন, তবে এমবাপ্পেকে সিংহাসনচ্যুত করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার মুকুটটি আবারও নিজের মাথায় তুলতে পারবেন।
মাঠের বাইরে এমবাপ্পে তো নিজের কাজটা করে রাখলেন, এবার নিউ জার্সির ফাইনালের মঞ্চে ফুটবল ঈশ্বর কী জাদু দেখান, তার ওপরই নির্ভর করছে কার পায়ে উঠছে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট!
