টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ইতালির ছিটকে পড়া দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক চরম লজ্জার অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন সংকট কাটিয়ে ‘আজুরি’দের পুনরায় বিশ্বসেরার মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে সাবেক ইতালিয়ান ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইতালির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলাই হলেন যোগ্যতম ব্যক্তি; একমাত্র তিনিই পারেন ইতালিকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইতালির বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধান কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জেনারো গাত্তুসো। এর ফলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি প্রথম কোনো সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হলো। ২০১৪ সালের পর থেকে ইতালিকে আর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দেখা যায়নি এবং ২০০৬ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে তারা নকআউট পর্বে একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি। গাত্তুসোর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বোনুচ্চি মনে করেন, ইতালিয়ান ফুটবলে এখন আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বোনুচ্চি বলেন, যদি আমরা জাতীয় দলে বড় পরিবর্তন দেখতে চাই, তবে পেপ গার্দিওলাই হতে পারেন সঠিক মানুষ। আমি জানি এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, কিন্তু স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই। যদিও গার্দিওলার সাথে ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে, তবে স্প্যানিশ এই কোচ অতীতে বহুবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গার্দিওলা ছাড়াও আন্তোনিও কন্তে এবং মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির নাম সম্ভাব্য তালিকার আলোচনায় রয়েছে। বোনুচ্চি বিশ্বাস করেন, গার্দিওলার মতো বিশ্বসেরা কোচের উপস্থিতি ইতালিয়ান ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
ইউরো ২০২০ জয়ের সাময়িক সাফল্য থাকলেও বোনুচ্চি মনে করেন, ইতালিয়ান ফুটবলের কাঠামো একদম গোড়া থেকে পুনর্গঠন করা জরুরি। তাঁর মতে, তরুণ মেধাবী খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার জন্য সময় এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। বোনুচ্চি বলেন, বিশ্বের সম্মান ফিরে পেতে এবং সেই শক্তিশালী ইতালিতে পরিণত হতে আমাদের সাহসের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ডিফেন্স থেকে শুরু করে পুরো ফুটবল ব্যবস্থার সংস্কার দরকার।
পরিশেষে বোনুচ্চি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি এবং ফুটবল কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে ইতালিয়ান ফুটবল পুনরায় সঠিক পথে ফিরতে পারে। তাঁর মতে, রাতারাতি কোনো সাফল্য সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এখন দেখার বিষয়, আজুরিদের এই ক্রান্তিলগ্নে গার্দিওলার মতো কোনো হাই-প্রোফাইল কোচ ইতালির ডাগআউটে আসেন কি না।