আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা- ফিফা। মঙ্গলবার ফিফা কাউন্সিল এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুরো টুর্নামেন্টে দুইবার হলুদ কার্ডের রেকর্ড ‘মুছে ফেলা’ বা বাতিল করা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নামের পাশে থাকা একটি হলুদ কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। এরপর আবার কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো হলুদ কার্ডের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে। অর্থাৎ, প্রতি পর্বে একটি করে হলুদ কার্ডের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে।
ফিফা জানিয়েছে, যেহেতু ২০২৬ বিশ্বকাপ ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে অতিরিক্ত একটি নকআউট রাউন্ড (রাউন্ড অব ৩২) যুক্ত হয়েছে, তাই খেলোয়াড়দের অহেতুক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নিয়ম ছিল, শুধুমাত্র কোয়ার্টার ফাইনালের পর কার্ড বাতিল করা হতো, যাতে কেউ সেমিতে কার্ড দেখে ফাইনাল মিস না করেন। কিন্তু এবার অতিরিক্ত ম্যাচের কথা চিন্তা করে গ্রুপ পর্বের পরেই একবার ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো। খেলোয়াড়দের বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলার বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে খেলোয়াড়কে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতো। নতুন এই ‘অ্যামনেস্টি’ বা ক্ষমার কারণে গ্রুপ পর্বে একটি কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় নকআউট পর্ব শুরু করবেন একদম ফ্রেশ বা কার্ডহীন অবস্থায়।
একইভাবে রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে যদি কেউ একটি হলুদ কার্ড পান, তবে সেমিফাইনালে ওঠার পর তাঁর সেই কার্ডটিও বাতিল হয়ে যাবে। এতে করে সেমিফাইনালে কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখলেও তিনি ফাইনাল খেলার সুযোগ পাবেন।
হলুদ কার্ডের নিয়মের পাশাপাশি ফিফা অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের জন্য আর্থিক বরাদ্দ ১৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে, যার ফলে প্রতিটি দেশ কমপক্ষে ১৮ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এর মধ্যে প্রতিটি দলের প্রস্তুতি খরচ ১.৫ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ২.৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কোয়ালিফিকেশন মানি ৯ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশ্বযজ্ঞ চলবে। ফিফার এই নতুন সংস্কারের ফলে সমর্থকরা মাঠের লড়াইয়ে তারকা খেলোয়াড়দের হারানো ছাড়াই বিশ্বকাপের পূর্ণ রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।