বয়সটা শুধু একটা সংখ্যা- এতদিন ফুটবল বিশ্বে এই প্রবাদের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ছিলেন লুকা মদ্রিচ। কিন্তু ৪০ বছর বয়সে এসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত চোট ক্রোয়েশিয়ান এই জাদুকরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে জীবনের কঠিনতম এক সিদ্ধান্তের সামনে। সান সিরোর সবুজ গালিচায় কি আরও এক মৌসুম দেখা যাবে এই কিংবদন্তিকে, নাকি এটাই হতে যাচ্ছে তার ‘ফেয়ারওয়েল’? ফুটবল পাড়ায় এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে চড়া।
জুভেন্টাসের বিপক্ষে এসি মিলানের গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচটি মদ্রিচের জন্য রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। ম্যানুয়েল লোকাতেলির সাথে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে গালে গুরুতর চোট (ফ্র্যাকচার্ড চিকবোন) পেয়েছেন তিনি। সিরি-আ’র চলতি মৌসুমের বাকি চার ম্যাচ থেকে তাকে ছিটকে দিয়েছে এই চোট। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মদ্রিচকে ঘিরেই এখন মিলান সমর্থকদের যত উৎকণ্ঠা।
সাধারণত ৪০ বছর বয়সে এমন চোট ক্যারিয়ারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু মদ্রিচ অন্য ধাতুতে গড়া। ‘লা গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’-এর খবর অনুযায়ী, চোট সত্ত্বেও এখনই বুট জোড়া তুলে রাখার পরিকল্পনা নেই তার। বরং মিলানের সাথে চুক্তির এক বছরের এক্সটেনশন ক্লজটি সক্রিয় করার দিকেই তার ঝোঁক বেশি। মজার ব্যাপার হলো, রিয়াল মাদ্রিদে তার শেষ পাঁচ মৌসুমের চেয়েও মিলানের এই মৌসুমে তিনি অনেক বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন, যা তার অফুরন্ত প্রাণশক্তির প্রমাণ দেয়।
মদ্রিচ চান না তার ক্যারিয়ারের শেষটা হোক হাসপাতালের বেডে শুয়ে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল, বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চ তাকে এখনও টেনে ধরেছে। মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির তুরুপের তাস এখন মদ্রিচ; মাঝমাঠের টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আল্লেগ্রি তার ওপরেই ভরসা রাখছেন সবচাইতে বেশি। মিলান কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মদ্রিচের—তিনি চাইলে সান সিরোর দরজা তার জন্য সবসময় খোলা।
সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা কেবল মাঠেই সেরা নন, মিলানের তরুণ ফুটবলারদের কাছে তিনি এখন একজন অভিভাবক ও মেন্টর। পুরনো ক্লাব দিনামো জাগরেব তাকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকলেও, মদ্রিচ চান তার বিদায়টা হোক ইউরোপের শীর্ষ কোনো মঞ্চে। তবে সব সিদ্ধান্তের আগে তার পাখির চোখ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের হয়ে সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামার আগে নিজেকে ফিট করাই তার প্রথম অগ্রাধিকার।
সিদ্ধান্ত এখন শুধু দুটি, হয় মিলানের জার্সি গায়ে আরও একটি বছর ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করা, নয়তো পেশাদার ফুটবলকে চিরতরে বিদায় বলা। যদি তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে সান সিরোর হাজার হাজার ভক্তের চোখের জলে সিক্ত হয়েই মাঠ ছাড়বেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই আশা, চোট কাটিয়ে চেনা ছন্দে আবারও ফিরবেন ‘এলএম টেন’।
তথ্যসূত্র: গোল ডটকম