লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে এখনই মরণঘণ্টা বাজতে দিচ্ছেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রোববার রাতে এসপানিওলের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের ২-০ গোলের জয়ে কার্যত একক আধিপত্য দেখালেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। কিলিয়ান এমবাপ্পে, থিবো কোর্তোয়া কিংবা আরদা গুলেরদের মতো তারকাদের অনুপস্থিতিতে রিয়াল যখন খেই হারাচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন ভিনি।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই রিয়ালের অবস্থা ছিল অনেকটা ছন্নছাড়া। মূল একাদশের চার-পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই দল সাজাতে হয়েছিল আলভারো আরবেলোয়াকে।
পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে রিয়াল বল দখলে রাখলেও এসপানিওলের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারছিল না। মন্থর গতির এই ম্যাচে প্রাণ ফেরাতে ভিনিসিয়াস নিলেন রুদ্রমূর্তি। ফলাফল? দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে এসপানিওলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিলেন তিনি।
৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ভিনি। বাঁ দিক থেকে ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে গঞ্জালোর সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে দুই ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর নিখুঁত নিচু শটে বল জালে জড়ান, যা পোস্টে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়।
কিন্তু আসল চমক তখনও বাকি ছিল! ৬৬ মিনিটে দেখা গেল জুড বেলিংহাম আর ভিনিসিয়াসের সেই চেনা রসায়ন। বেলিংহামের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিল পাস থেকে ভিনিসিয়াস যখন প্রথম ছোঁয়ায় বলটি টপ কর্নারে পাঠালেন, এসপানিওল গোলরক্ষক কেবল দর্শক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।
এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সাথে রিয়ালের পয়েন্ট ব্যবধান এখন ১১। হাতে আছে মাত্র চারটি ম্যাচ। অর্থাৎ, বার্সার শিরোপা উদযাপন রিয়াল কেবল এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিল। আগামী সপ্তাহেই ক্যাম্প ন্যু-তে মুখোমুখি হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। সেই এল ক্লাসিকোতে জয় পেলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসবে মাতবে কাতালানরা।
রিয়ালের জন্য এই জয়টা ছিল শুধুই সম্মানের লড়াই এবং শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা। এমবাপ্পে-বিহীন রিয়াল যে কেবল ভিনিসিয়াসের কাঁধে চড়েও পার পেতে পারে, এই ম্যাচ ছিল তারই প্রমাণ। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর আগামী সপ্তাহের সেই মহারণে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে স্প্যানিশ ফুটবলের রাজদণ্ড কার হাতে উঠবে।