নেইমারের প্রত্যাবর্তনে ব্রুনার আবেগঘন খোলা চিঠি

সব সংশয় আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যখন নেইমার জুনিয়রের নাম ঘোষণা হলো, তখন আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে শুধু কোটি ব্রাজিলিয়ান ভক্তের মনেই নয়; বরং এই স্বস্তির জোয়ারে ভাসছে নেইমারের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরাও।

চোট আর তীব্র সমালোচনায় জর্জরিত থাকা নেইমারের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে উদযাপন করতে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন ও দীর্ঘ খোলা চিঠি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রেমিকা তথা বিখ্যাত ইনফ্লুয়েন্সার ব্রুনা বিয়ানকার্দি। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সেই চিঠি নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

Neymar 10
ওই ছবিতে দেখা যায়, নেইমার ও ব্রুনা সবুজ-হলুদ রঙের আতশবাজি আর ফুলঝুরির আলোয় মেতে আছেন। তবে ছবির চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে ব্রুনার ক্যাপশনটি, যেখানে তিনি বিগত কয়েক বছরে নেইমারের ক্যারিয়ারের কালো অধ্যায়, বারবার চোটের আঘাত, গণমাধ্যমের নির্মম সমালোচনা এবং তাঁর ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর সংশয়ের দিনগুলোর কথা অকপটে তুলে ধরেছেন।

নেইমারের নীরব লড়াইয়ের সাক্ষী ব্রুনা চিঠিতে লিখেছেন, আমি তোমার সাথে খুব কঠিন কিছু দিন দেখেছি এবং পার করেছি। যখন হাল ছেড়ে দেওয়াটাই সবচেয়ে সহজ পথ ছিল, তখনো তুমি যেভাবে সব কষ্ট মুখ বুজে সহ্য করে লড়াই চালিয়ে গেছো, তা অবিশ্বাস্য!

Neymar 08
ব্রুনা আরও স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারকে নিয়ে হওয়া অবিরাম সমালোচনা, কটূক্তি, ট্রল এবং মুখরোচক হেডলাইনগুলো তাঁকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি ‘সত্যিই’ নেইমারের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এত কিছুর পরও নেইমার নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাননি; মুখ ফিরিয়ে নেননি তাঁর পরিবার, দল কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে।

চিঠির শেষাংশে ব্রুনা যোগ করেন, এতগুলো মানুষ যখন তোমার সেই প্রতিভাকে আবারও স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা অনেকে মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল,তা দেখা সত্যিই আবেগপূর্ণ। এখন একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, সম্ভবত যেটির জন্য তুমি সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছিলে। এই দলে ডাক পাওয়াটা কোনো ভাগ্য নয়; এটি তোমার নিষ্ঠা, বিশ্বাস, শ্রম, সাহস আর ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার ফল! এখন তোমার জ্বলে ওঠার সময়! এবার বিশ্বকে তোমার আলো দেখাও।”

Neymar 09
২০২১ সালে ডেটিং শুরু করার পর থেকে নেইমার ও ব্রুনার সম্পর্ক বহু চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। একাধিকবার নেইমারের পরকীয়া বা প্রতারণার খবরের জেরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তাদের ব্রেকআপও হয়। তবে সব অভিমান ভুলে ২০২৪ সালের শেষের দিকে এই জুটি আবারও এক হয় এবং বর্তমানে তাদের দুই কন্যাসন্তান মাভি ও মেল’কে নিয়ে সুখে সংসার করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ-হাঁটুর রগে এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন এই সান্তোস ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে তাঁর ফেরাটা ব্রাজিলিয়ানদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।