ফুটবল দুনিয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চিরবৈরিতা চিরন্তন, যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয়। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক শত্রুতার দেয়াল ভেঙে এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ নায়ক ও ব্যালন ডি’অরজয়ী কিংবদন্তি রিভালদো!
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক রূপকথার প্রত্যাবর্তনের পর লিওনেল মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি এই সেলেসাও গ্রেট। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দা-কুমড়ো হলেও, মেসির শ্রেষ্ঠত্বকে স্যালুট জানাতে ভুল করেননি তিনি।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে খাদের কিনারায় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরের কাছে পেনাল্টি মিস করে খলনায়ক বনে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল খোদ মেসির।
কিন্তু ৩৯ বছর বয়সী এই 'বুড়ো'র ম্যাজিকেই পাশার দান উল্টে যায়। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করানোর পর, চার মিনিটের মাথায় নিজেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এলএমটেন।
এই আসরে এটি মেসির ৮ম গোল, যা তাকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে নিয়ে গেছে। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের বুলেট হেডারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি।
ম্যাচ শেষে মেসির সেই কান্নার ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে রিভালদো লিখেন, কী দুর্দান্ত মনোবল, জয়ের কী তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আর পুরো দলের কী অবিশ্বাস্য লড়াই ও উৎসর্গ! বিশ্বমঞ্চে সমর্থকরা মাঠের ভেতর ঠিক এটাই তো দেখতে চায়। লিওনেল মেসিকে নিয়ে কথা বলা মানে তো চেনা সত্যিটাই নতুন করে আওড়ানো। কী এক খেলোয়াড় রে ভাই! ৩৯ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসেও আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য একই রকম আবেগ দেখাচ্ছেন, উচ্ছ্বাস করছেন, লড়াই করছেন, কাঁদছেন এবং আবারও ব্যবধান গড়ে দিচ্ছেন!
শেষ ১৬-এর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায় যখন পুরো সাম্বা শিবিরকে বিষাদে ডুবিয়েছে, তখন রিভালদো দেখালেন কীভাবে শত্রুতা ভুলে বীরের সম্মান দিতে হয়। নিজের ব্রাজিলিয়ান সত্ত্বাকে উচ্চে রেখেই তিনি বলেন, আমি একজন ব্রাজিলিয়ান, আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং সবসময় সেলেসাওদের জন্যই গলা ফাটাব। ফুটবলীয় রেষারেষি খেলারই অংশ, কিন্তু একটা দুর্দান্ত ম্যাচ এবং মাঠে সবটুকু উজাড় করে দেওয়া দলকে কীভাবে সম্মান ও বাহবা দিতে হয়, তা আমি জানি। এই ধরণের ম্যাচগুলো ফুটবলের মানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা একটি বিশ্বকাপের সত্যিকারের সৌন্দর্য। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য আর্জেন্টিনাকে অনেক অভিনন্দন।
মাঠের বাইরে ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির এমন মনখোলা প্রশংসা যেন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও মধুর অধ্যায় হয়ে রইল!
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন
অলিসের হলুদ কার্ড বহাল রাখায় ক্ষুব্ধ ফরাসি কোচ
ফন্টেইনের অবিশ্বাস্য রেকর্ড থেকে কতটা দূরে মেসি?
ব্যালন ডি’অরের হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিলো বিশ্বকাপ