আগামী মাসে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের মহোৎসব, আর ঠিক তার আগমুহূর্তে এক চরম বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর দল ঘোষণা করল আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম পরাশক্তি ঘানা। সাবেক আর্সেনাল তারকা এবং বর্তমানে ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার টমাস পার্টেকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বকাপের জন্য ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্ল্যাক স্টারসরা।
তবে ফুটবলীয় দক্ষতার চেয়েও এই মুহূর্তে পার্টেকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় চলছে তুমুল শোরগোল। কারণ, মাথায় এক বা দুটি নয়, এক ডজন গুরুতর অপরাধের খড়গ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ঘানাকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন এই তারকা!
৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বর্তমানে এক চরম আইনি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং একটি যৌন নিপীড়নের মামলা চলছে, যার কারণে আগামী বছর তাঁকে সেখানে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
যদিও পার্টে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে এমন এক ‘ব্যাড বয়’ ইমেজধারী খেলোয়াড়কে দলে রাখায় ঘানার ফুটবল ফেডারেশনকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমালোচকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে রীতিমতো ‘সসি’ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বলে ধুয়ে দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপিংয়েও ঘানার কপালে জুটেছে এক মস্ত বড় অগ্নিপরীক্ষা। ‘গ্রুপ এল’-এ ব্ল্যাক স্টারদের মুখোমুখি হতে হবে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার। গ্রুপের অন্য দলটি হলো পানামা। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড তথা থ্রি লায়ন্সদের রুখতে মাঝমাঠে টমাস পার্টের অভিজ্ঞতার ওপর কোচকে একরকম বাজিই ধরতে হলো।
পার্টে ছাড়াও ঘানার এই প্রাথমিক স্কোয়াডে বেশ কিছু চেনা মুখ রয়েছেন। আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করার দায়িত্ব থাকছে ম্যানচেস্টার সিটির আন্তোইন সেমেনিয়ো, অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ইনাকি উইলিয়ামস এবং লিস্টার সিটির অভিজ্ঞ জর্ডান আইয়ুর ওপর।
মাঝমাঠে পার্টেকে সঙ্গ দেবেন লিস্টার সিটির আব্দুল ফাতাউ ইসাহাকু। অন্যদিকে রক্ষণভাগের মূল কাণ্ডারি হিসেবে থাকছেন রায়ো ভায়েকানোর আব্দুল মুমিন এবং রেনের আলিদু সাইদু।
আইনি বিতর্ক মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে কি না, নাকি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সব বিতর্ককে পায়ে ঠেলে পার্টে ঘানাকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পারেন, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল দুনিয়া।
ঘানার ২৮ সদস্যের স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: বেনঞ্জামিন আসারে, লরেন্স আতি-জিগি, জোসেফ আনং, সলোমন আগবাসি, পল রিভারসন।
রক্ষণভাগ: বাবা আব্দুল রহমান, গিদিয়ন মেনসাহ, মারভিন সেনায়া, আলিদু সাইদু, আব্দুল মুমিন, জেরোম ওপোকু, জোনাস আদজেতেই, কোজো পেপরা ওপং, আলেকজান্ডার জিকু, এলিশা ওয়াসু।
মধ্যভাগ: টমাস পার্টে, কোয়াসি সিবো, অগাস্টিন বোয়াকিয়ে, ক্যালেব ইরেঙ্কি, আব্দুল ফাতাউ ইসাহাকু।
আক্রমণভাগ: কামালদিন সুলেমানা, ক্রিস্টোফার বোনসু বাহ, আর্নেস্ট নুয়ামাহ, আন্তোইন সেমেনিয়ো, ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্ট, প্রিন্স কোয়াবেনা আদু, ইনাকি উইলিয়ামস, জর্ডান আইয়ু।