আগামী ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের। মেগা এই টুর্নামেন্ট শুরু হতে যখন আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, ঠিক তখনই ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নাটকীয় সমীকরণ। ভারতের খ্যাতনামা বিনোদন মাধ্যম ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট’ সরাসরি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সাথে বিশ্বকাপের স্ট্রিমিং ও সম্প্রচার স্বত্ব কেনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার কোম্পানির পক্ষ থেকে দেয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই চুক্তিটির আর্থিক খুঁটিনাটি এখনো প্রকাশ করা না হলেও, জি এন্টারটেইনমেন্টের এই আকস্মিক প্রবেশ ভারতীয় ও বৈশ্বিক গণমাধ্যম বাজারে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। এর আগে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন ‘রিলায়েন্স-ডিজনি’ যৌথ ভেঞ্চারের সাথে ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছিল। কিন্তু দুই পক্ষের বনিবনা না হওয়ায় বর্তমানে সেই আলোচনা সম্পূর্ণ অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা শুরুতে ভারত অঞ্চলে ২০২৬ এবং ২০৩০, এই দুটি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছিল। পরবর্তীতে তারা নিজেদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করে ন্যূনতম ৬০ মিলিয়ন ডলারের নিচে নামবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
তবে ফিফার এই প্রত্যাশিত অঙ্কের বিপরীতে রিলায়েন্স-ডিজনি মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়, যা ফিফার দাবির তুলনায় অনেক কম। ভারতের আরেক শীর্ষ সম্প্রচারক ‘সনি’ এই স্বত্ব কেনার দৌড়ে আলোচনায় অংশ নিলেও, পরবর্তীতে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঠিক এই জটিল মুহূর্তেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলো জি এন্টারটেইনমেন্ট। সম্প্রতি ক্রীড়া জগতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে তারা ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস’ নামে একটি ডেডিকেটেড স্পোর্টস চ্যানেল পোর্টফোলিও চালু করেছে।
এই নতুন স্পোর্টস নেটওয়ার্কের উদ্বোধনের অংশ হিসেবেই তারা ফিফার সাথে এই মেগা ডিলের বিষয়ে আলোচনা শুরু করার কথা প্রকাশ্যে এনেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে ১৮০টিরও বেশি অঞ্চলে ফিফা তাদের সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
ফুটবল বিশ্বে ক্রিকেটের দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যে কতটা আকাশচুম্বী, তা ফিফার দেয়া পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বব্যাপী লিনিয়ার টিভি রিচের ক্ষেত্রে ভারতের অবদান ছিল ২.৯ শতাংশ, যা দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে চীনের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সেবার ভারতের সব ধরনের মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ৭৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি ভক্ত ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করেছিলেন। শুধু টেলিভিশন দর্শক সংখ্যার হিসেবেই ভারত বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল, যা জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বকাপ খেলা পরাশক্তিগুলোর চেয়েও বেশি। কাতারে ভারতের প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ টেলিভিশনে খেলা দেখেছিলেন।